মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৫৬ অপরাহ্ন | ৬ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চ্যাটজিপিটিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকির নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত: ঝুঁকিতে পড়েছিল ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য

  • হালনাগাদ সময় : ০২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেকোনো বার্তা, পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ কিংবা নান্দনিক কবিতা লিখে দেওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারায় বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত চ্যাটজিপিটি চ্যাটবট ব্যবহার করে থাকেন। তবে প্রতিনিয়ত ব্যবহারের এই প্রেক্ষাপটে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যবহারকারীদের হওয়া ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল কথোপকথনের তথ্যের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি প্যারামিটার নামের একটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা চ্যাটজিপিটিতে একটি মারাত্মক ও অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই কারিগরি ত্রুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে চ্যাটজিপিটির তৈরি করা একটি লিংকের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও সংরক্ষিত সব তথ্য সহজে জেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গবেষকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং চ্যাটজিপিটির অভ্যন্তরীণ এই কারিগরি ত্রুটিটি স্থায়ীভাবে সমাধান করে।

প্যারামিটারের গবেষকদের বিশদ তথ্যানুযায়ী, হ্যাকাররা চাইলে ই-মেইল, ব্যক্তিগত বার্তা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উন্মুক্ত পোস্টের মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি একটি ক্ষতিকর চ্যাটজিপিটি লিংক ছড়িয়ে দিয়ে এই চ্যাটবটটিতে ক্ষতিকর কোড সক্রিয় করতে পারত। এই ফাঁদে ফেলার জন্য ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো সফটওয়্যার ডিভাইসে ইনস্টল করতে হতো না, নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ বা ওয়ার্কস্পেসে যুক্ত হতে হতো না এবং নতুন করে অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করারও প্রয়োজন পড়ত না। ব্যবহারকারী কেবল সেই লিংকটি খোলার পর চ্যাটজিপিটির ইন্টারফেসে প্রদর্শিত ‘প্রিভিউ’ বাটনে মাত্র একবার ক্লিক করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর কোডটি চালু হয়ে যেত। আর বিশেষভাবে প্রোগ্রাম করা ওই লিংকটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত সব কথোপকথন জেনে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হতো।

গবেষকদের অনুসন্ধানে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ত্রুটির কারণে ক্ষতিকর কোডগুলো ব্যবহারকারীর ডিভাইসের পর্দায় প্রদর্শিত তথ্য সংগ্রহের সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করত না। বরং তার বদলে চ্যাটজিপিটির নিজস্ব সাইন ইন করা এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ব্যবহার করত ওই কোডগুলো। এর ফলে বহিরাগত পক্ষ ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ সুযোগ পেয়েছিল।

মূলত ওপেনএআইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ‘বাগ বাউন্টি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত স্বাধীন গবেষণায় এই ত্রুটিটি চিহ্নিত করেন গবেষকেরা। ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা মানদণ্ড ও ঝুঁকি নির্দেশক নীতিমালা অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় এই ত্রুটিটিকে ‘পি১’ (P1) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা মূল্যায়নে সর্বোচ্চ মাত্রার তীব্র ও বিপজ্জনক সাইবার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলবাড়ী থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবিতে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর মানববন্ধন

06 November 2026

বগুড়ায় পুলিশকে পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, গাড়ি ভাঙচুর: আটক ৪

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চ্যাটজিপিটিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকির নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত: ঝুঁকিতে পড়েছিল ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য

হালনাগাদ সময় : ০২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেকোনো বার্তা, পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ কিংবা নান্দনিক কবিতা লিখে দেওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারায় বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত চ্যাটজিপিটি চ্যাটবট ব্যবহার করে থাকেন। তবে প্রতিনিয়ত ব্যবহারের এই প্রেক্ষাপটে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যবহারকারীদের হওয়া ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল কথোপকথনের তথ্যের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি প্যারামিটার নামের একটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা চ্যাটজিপিটিতে একটি মারাত্মক ও অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই কারিগরি ত্রুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে চ্যাটজিপিটির তৈরি করা একটি লিংকের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও সংরক্ষিত সব তথ্য সহজে জেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গবেষকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং চ্যাটজিপিটির অভ্যন্তরীণ এই কারিগরি ত্রুটিটি স্থায়ীভাবে সমাধান করে।

প্যারামিটারের গবেষকদের বিশদ তথ্যানুযায়ী, হ্যাকাররা চাইলে ই-মেইল, ব্যক্তিগত বার্তা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উন্মুক্ত পোস্টের মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি একটি ক্ষতিকর চ্যাটজিপিটি লিংক ছড়িয়ে দিয়ে এই চ্যাটবটটিতে ক্ষতিকর কোড সক্রিয় করতে পারত। এই ফাঁদে ফেলার জন্য ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো সফটওয়্যার ডিভাইসে ইনস্টল করতে হতো না, নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ বা ওয়ার্কস্পেসে যুক্ত হতে হতো না এবং নতুন করে অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করারও প্রয়োজন পড়ত না। ব্যবহারকারী কেবল সেই লিংকটি খোলার পর চ্যাটজিপিটির ইন্টারফেসে প্রদর্শিত ‘প্রিভিউ’ বাটনে মাত্র একবার ক্লিক করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর কোডটি চালু হয়ে যেত। আর বিশেষভাবে প্রোগ্রাম করা ওই লিংকটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত সব কথোপকথন জেনে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হতো।

গবেষকদের অনুসন্ধানে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ত্রুটির কারণে ক্ষতিকর কোডগুলো ব্যবহারকারীর ডিভাইসের পর্দায় প্রদর্শিত তথ্য সংগ্রহের সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করত না। বরং তার বদলে চ্যাটজিপিটির নিজস্ব সাইন ইন করা এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ব্যবহার করত ওই কোডগুলো। এর ফলে বহিরাগত পক্ষ ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ সুযোগ পেয়েছিল।

মূলত ওপেনএআইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ‘বাগ বাউন্টি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত স্বাধীন গবেষণায় এই ত্রুটিটি চিহ্নিত করেন গবেষকেরা। ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা মানদণ্ড ও ঝুঁকি নির্দেশক নীতিমালা অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় এই ত্রুটিটিকে ‘পি১’ (P1) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা মূল্যায়নে সর্বোচ্চ মাত্রার তীব্র ও বিপজ্জনক সাইবার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত।

Share this news as a Photo Card