মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:২৯ অপরাহ্ন | ৩রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

অক্টোবরে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ২৪০, ধর্ষণের ঘটনা ৫১: মহিলা পরিষদ

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা ও যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৪০ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৫১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের তিনজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অক্টোবর মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এই বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অক্টোবর মাসে ধর্ষণের শিকার ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জনই কন্যাশিশু এবং ১৭ জন নারী। এদের মধ্যে ছয় কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় দুই কন্যাশিশুসহ তিনজনকে। এছাড়া ১৭ কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

একই মাসে বিভিন্ন কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৪২ জন নারী ও শিশু, যার মধ্যে সাতজন কন্যাশিশু ও ৩৫ জন নারী। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের। অন্যদিকে আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন, যার মধ্যে ছয়জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। এছাড়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন।

যৌন সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য মাসে ১৫ কন্যাশিশুসহ মোট ২১ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হন। এর মধ্যে সাত কন্যাশিশুসহ নয়জন যৌন নিপীড়নের শিকার এবং সমসংখ্যক উত্ত্যক্তকরণের মুখোমুখি হন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন একজন কন্যাশিশুসহ তিনজন। এছাড়া অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছেন একজন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তিন কন্যাশিশুসহ চারজন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাতজন নারী, যাদের মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুজন এবং অন্যান্যভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও আটজন। পাশাপাশি ছয় কন্যাশিশু অপহরণ এবং নয় কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। পাচারের শিকার হয়েছেন দুজন এবং বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে দুটি। মহিলা পরিষদের প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কওমি মাদ্রাসায় বাড়ছে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন: অভিভাবকদের মধ্যে চরম শঙ্কা ও আস্থার সংকট

03 November 2026

জ্যোতির উত্তরসূরি নাহিদার সামনে প্রথম পরীক্ষা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

অক্টোবরে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ২৪০, ধর্ষণের ঘটনা ৫১: মহিলা পরিষদ

হালনাগাদ সময় : ১১:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা ও যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৪০ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৫১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের তিনজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অক্টোবর মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এই বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অক্টোবর মাসে ধর্ষণের শিকার ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জনই কন্যাশিশু এবং ১৭ জন নারী। এদের মধ্যে ছয় কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় দুই কন্যাশিশুসহ তিনজনকে। এছাড়া ১৭ কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

একই মাসে বিভিন্ন কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৪২ জন নারী ও শিশু, যার মধ্যে সাতজন কন্যাশিশু ও ৩৫ জন নারী। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের। অন্যদিকে আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন, যার মধ্যে ছয়জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। এছাড়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন।

যৌন সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য মাসে ১৫ কন্যাশিশুসহ মোট ২১ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হন। এর মধ্যে সাত কন্যাশিশুসহ নয়জন যৌন নিপীড়নের শিকার এবং সমসংখ্যক উত্ত্যক্তকরণের মুখোমুখি হন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন একজন কন্যাশিশুসহ তিনজন। এছাড়া অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছেন একজন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তিন কন্যাশিশুসহ চারজন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাতজন নারী, যাদের মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুজন এবং অন্যান্যভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও আটজন। পাশাপাশি ছয় কন্যাশিশু অপহরণ এবং নয় কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। পাচারের শিকার হয়েছেন দুজন এবং বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে দুটি। মহিলা পরিষদের প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।

Share this news as a Photo Card