সাধারণত আমরা সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করি এবং নামাজ শেষেই বের হয়ে যাই। তবে সালাত আদায় ছাড়াও মসজিদে অবস্থান ও বসে থাকার রয়েছে বিশেষ আত্মিক গুরুত্ব ও ফজিলত। হাদিস শরিফে মসজিদে অবস্থানকারীর জন্য বিশেষ সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যতক্ষণ পর্যন্ত মসজিদে সালাত ও জিকিরে রত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তাআলা তার প্রতি এতটাই আনন্দিত হন, যেমন প্রবাস থেকে কোনো ব্যক্তি তার পরিবারে ফিরে এলে তারা তাকে পেয়ে আনন্দিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ: ৮০০)
যারা মসজিদে এসে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ সালাত আদায়ের পর ফরজ সালাতের জন্য অপেক্ষা করে কিংবা ফরজ সালাত আদায়ের পরও মসজিদে অবস্থান করে, তাদের জন্য ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করতে থাকে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে এবং তার অজু ভঙ্গ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করে বলতে থাকে— হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি রহম করুন। আর যে ব্যক্তির সালাত তাকে ঘরে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, সে সালাতরত আছে বলেই গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫৯)
হজরত আবদুর রহমান বিন আমর (রা.) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। এরপর যাদের চলে যাওয়ার তারা চলে গেল এবং যারা অবস্থান করার তারা থেকে গেল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) এত দ্রুতবেগে এলেন যে তাঁর দীর্ঘ নিঃশ্বাস বের হতে লাগল। তিনি দুই হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে বললেন, ‘তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো! তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব করে বলছেন— দেখো, আমার বান্দারা এক ফরজ আদায়ের পর পরবর্তী ফরজের জন্য অপেক্ষা করছে।’ (ইবনে মাজাহ: ৮০১)

























