দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় দেখা গেছে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ২৯০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। গত বছরের তুলনায় এ বছর শতভাগ অকৃতকার্য কলেজের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ বোর্ডে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৩টি, যেখানে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৮২ জন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের তালিকায় আরও ছয়টি কলেজ যুক্ত হয়েছে এবং অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১০৮ জন।
জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, নীলফামারী জেলার সর্বোচ্চ ১২টি কলেজের ১১৭ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এছাড়া কুড়িগ্রামের ৯টি কলেজের ৭০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি কলেজের ৩৮ জন, লালমনিরহাটের ৬টি কলেজের ১৮ জন, দিনাজপুরের ৬টি কলেজের ১৭ জন, রংপুরের ৩টি কলেজের ১৭ জন, পঞ্চগড়ের ২টি কলেজের ১০ জন এবং গাইবান্ধার ২টি কলেজের ৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অনুত্তীর্ণ হয়েছেন।
বোর্ডের অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নীলফামারীর ভেড়ভেরি মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের কেউই কৃতকার্য হতে পারেননি। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন বা একাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েও সফল হতে পারেননি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোর এমন শোচনীয় ফলাফল শিক্ষার সামগ্রিক মান ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।


























