এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বত্র বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২ থেকে লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৩-এ। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সংকুচিত হয়ে ঠেকেছে মাত্র ১৩৯টিতে। এই পরিসংখ্যানকে কেবল পরীক্ষার ফল ওঠানামার সাধারণ চিত্র হিসেবে দেখলে শিক্ষার মূল সংকট আড়ালেই থেকে যাবে। এর সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহির প্রশ্ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
প্রথমত, পাসের হার কমে যাওয়া মানেই শিক্ষার মান রাতারাতি বেড়ে গেছে—এমন সরল উপসংহারে পৌঁছানোর কোনো সুযোগ নেই। আবার পাসের হার কমলেই পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ, এমন দাবি করাও যুক্তিসঙ্গত নয়। পরীক্ষার সার্বিক ফল নির্ভর করে প্রশ্নপত্রের ধরন, মূল্যায়নের মানদণ্ড, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও পরীক্ষা চলাকালীন সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর। তাই এই ফলাফল মূল্যায়নে আবেগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে গভীর ও তথ্যনির্ভর একাডেমিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এবারের ফলাফলে যদি খাতা মূল্যায়নে বাড়তি সতর্কতা ও কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখা হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। সনদসর্বস্ব কৃত্রিম পাসের হার বাড়িয়ে মেধার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ ও যথাযথ মূল্যায়নের কারণে পাসের হার কমলে তাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা ঠিক নয়; বরং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সঠিক মূল্যায়ন অপরিহার্য।
তবে কঠোর মূল্যায়নের আড়ালে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও নীতিগত ব্যর্থতার দায় কেবল শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যথাযথ ছিল কি না, শিক্ষকেরা নিয়মিত ও মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিত করেছেন কি না এবং প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ ছিল কি না—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে কেবল ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধা বা পরিশ্রম নিয়ে মন্তব্য করা অন্যায্য।


























