ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কাটিয়ে উঠুন বিষণ্নতা: সহজ কিছু পরামর্শ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

আমাদের সময়ের সবচেয়ে নীরব মহামারির নাম ‘বিষণ্নতা’। ব্যস্ত জীবন, সামাজিক চাপ, একাকিত্ব, কাজের প্রতিযোগিতা কিংবা সম্পর্কের দোলাচল; সব মিলিয়ে মানসিক ক্লান্তি এখন নিত্যসঙ্গী। তবে মন খারাপ মানেই থেমে যাওয়া নয়। একটু সচেতনতা, কিছু সহজ অভ্যাস আর নিজের প্রতি যত্ন; এই ত্রিভুজই পারে আমাদের ফিরিয়ে আনতে স্বাভাবিকতায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষণ্নতা কাটানোর উপায় অনেক, আর তার বেশ কিছুই রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই।

নিজেকে বুঝতে শেখা

বিষণ্নতা চুপচাপ এসে মন দখল করে বসে। তাই প্রথম ধাপ হলো নিজের ভেতরের পরিবর্তনগুলো চেনা। কখন মন খারাপ বাড়ছে? কোন কারণে? শরীরের শক্তি কি কমে যাচ্ছে? ঘুম বা খাদ্যে পরিবর্তন আছে কি? নিজের অনুভূতির ডায়েরি রাখলে বিষয়গুলো বোঝা সহজ হয়।

প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া

বিজ্ঞান বলছে, দিনে মাত্র ২০ মিনিট খোলা আকাশের নিচে হাঁটলে স্ট্রেস কমে, হরমোন ব্যালেন্স হয়, মন ভালো থাকে। একটা ছোট পার্ক, বারান্দার গাছ, অথবা নদীর ধারে হাঁটা। প্রাকৃতিক থেরাপি সবসময়ই কাজ দেয়।

নিয়মিত ব্যায়াম

ব্যায়াম করলে ব্রেনে ‘হ্যাপিনেস হরমোন’ ডোপামিন ও সেরোটোনিন বৃদ্ধি পায়। জিমে না গেলেও চলে। বাড়ির ছাদে হাঁটা, ইউটিউব দেখে ১৫ মিনিটের ওয়ার্কআউট বা সাইকেল চালানো, যে কোনও শারীরিক নড়াচড়া মন ভালো করতে আশ্চর্য ভূমিকা রাখে।

ঘুমের প্রতি দায়িত্ব

অপর্যাপ্ত ঘুম বিষণ্নতা বাড়ায়, এটা প্রমাণিত সত্য। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, শোবার আগে স্ক্রিন কম ব্যবহার, ঘর একটু অন্ধকার ও নীরব রাখা; এগুলো ঘুমের মান বাড়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে।

খাদ্যাভ্যাসে ছোট্ট পরিবর্তন

আমাদের প্লেটই অনেক সময় ভালো–মন্দের পাল্লা ঠিক করে। ওমেগা–থ্রি (মাছ), বাদাম, ডার্ক চকলেট, দই, ফল, সবজি; এসব খাবার শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার বিষণ্নতা বাড়ায়, তাই যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।কাটিয়ে উঠুন বিষণ্নতা: সহজ কিছু পরামর্শ নিজেকে নিয়ে কাজ করা

মন ভালো করার জন্য বড় কিছু নয়, ছোট ছোট আনন্দই যথেষ্ট। যেমন-
• প্রিয় গান
• প্রিয় বই
• নতুন কোনও শখ
• ছবি আঁকা
• রান্না করা
• চায়ের আড্ডা
এগুলো মনকে চাঙা করে তোলে দ্রুত।

মানুষের সঙ্গে কথা বলা

নিজের অনুভূতি কাউকে বললে বোঝা হালকা হয়। বন্ধু, পরিবার বা খুব বিশ্বাসের কাউকে অন্তত বলুন, ‘আজ আমার মনটা ভালো নেই।’ এই একটি বাক্যই কখনও কখনও বিষণ্নতা কাটানোর দরজা খুলে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ কমানো

সোশ্যাল মিডিয়া তুলনামূলক জীবনের ভ্রম তৈরি করে। অন্যের সাফল্যের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে হওয়া স্বাভাবিক। তাই প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।

পেশাদারি সহায়তা নেওয়া লজ্জার নয়

বিষণ্নতা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের কাছে যাওয়া উচিত।
এটা দুর্বলতা নয়, নিজেকে বাঁচানোর বুদ্ধিমত্তা।কাটিয়ে উঠুন বিষণ্নতা: সহজ কিছু পরামর্শ বলা দরকার

বিষণ্নতা কোনও একদিনে আসে না, আবার একদিনেই যায়ও না। কিন্তু ছোট ছোট যত্ন আর সচেতনতা আমাদের টেনে আনে আলোয়। মনে রাখবেন, আপনি একা নন, আপনি গুরুত্বপূর্ণ। আর আপনার হাসিটা পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে। ফলে হাসি বন্ধ করা যাবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

কাটিয়ে উঠুন বিষণ্নতা: সহজ কিছু পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৪:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আমাদের সময়ের সবচেয়ে নীরব মহামারির নাম ‘বিষণ্নতা’। ব্যস্ত জীবন, সামাজিক চাপ, একাকিত্ব, কাজের প্রতিযোগিতা কিংবা সম্পর্কের দোলাচল; সব মিলিয়ে মানসিক ক্লান্তি এখন নিত্যসঙ্গী। তবে মন খারাপ মানেই থেমে যাওয়া নয়। একটু সচেতনতা, কিছু সহজ অভ্যাস আর নিজের প্রতি যত্ন; এই ত্রিভুজই পারে আমাদের ফিরিয়ে আনতে স্বাভাবিকতায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষণ্নতা কাটানোর উপায় অনেক, আর তার বেশ কিছুই রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই।

নিজেকে বুঝতে শেখা

বিষণ্নতা চুপচাপ এসে মন দখল করে বসে। তাই প্রথম ধাপ হলো নিজের ভেতরের পরিবর্তনগুলো চেনা। কখন মন খারাপ বাড়ছে? কোন কারণে? শরীরের শক্তি কি কমে যাচ্ছে? ঘুম বা খাদ্যে পরিবর্তন আছে কি? নিজের অনুভূতির ডায়েরি রাখলে বিষয়গুলো বোঝা সহজ হয়।

প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া

বিজ্ঞান বলছে, দিনে মাত্র ২০ মিনিট খোলা আকাশের নিচে হাঁটলে স্ট্রেস কমে, হরমোন ব্যালেন্স হয়, মন ভালো থাকে। একটা ছোট পার্ক, বারান্দার গাছ, অথবা নদীর ধারে হাঁটা। প্রাকৃতিক থেরাপি সবসময়ই কাজ দেয়।

নিয়মিত ব্যায়াম

ব্যায়াম করলে ব্রেনে ‘হ্যাপিনেস হরমোন’ ডোপামিন ও সেরোটোনিন বৃদ্ধি পায়। জিমে না গেলেও চলে। বাড়ির ছাদে হাঁটা, ইউটিউব দেখে ১৫ মিনিটের ওয়ার্কআউট বা সাইকেল চালানো, যে কোনও শারীরিক নড়াচড়া মন ভালো করতে আশ্চর্য ভূমিকা রাখে।

ঘুমের প্রতি দায়িত্ব

অপর্যাপ্ত ঘুম বিষণ্নতা বাড়ায়, এটা প্রমাণিত সত্য। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, শোবার আগে স্ক্রিন কম ব্যবহার, ঘর একটু অন্ধকার ও নীরব রাখা; এগুলো ঘুমের মান বাড়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে।

খাদ্যাভ্যাসে ছোট্ট পরিবর্তন

আমাদের প্লেটই অনেক সময় ভালো–মন্দের পাল্লা ঠিক করে। ওমেগা–থ্রি (মাছ), বাদাম, ডার্ক চকলেট, দই, ফল, সবজি; এসব খাবার শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার বিষণ্নতা বাড়ায়, তাই যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।কাটিয়ে উঠুন বিষণ্নতা: সহজ কিছু পরামর্শ নিজেকে নিয়ে কাজ করা

মন ভালো করার জন্য বড় কিছু নয়, ছোট ছোট আনন্দই যথেষ্ট। যেমন-
• প্রিয় গান
• প্রিয় বই
• নতুন কোনও শখ
• ছবি আঁকা
• রান্না করা
• চায়ের আড্ডা
এগুলো মনকে চাঙা করে তোলে দ্রুত।

মানুষের সঙ্গে কথা বলা

নিজের অনুভূতি কাউকে বললে বোঝা হালকা হয়। বন্ধু, পরিবার বা খুব বিশ্বাসের কাউকে অন্তত বলুন, ‘আজ আমার মনটা ভালো নেই।’ এই একটি বাক্যই কখনও কখনও বিষণ্নতা কাটানোর দরজা খুলে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ কমানো

সোশ্যাল মিডিয়া তুলনামূলক জীবনের ভ্রম তৈরি করে। অন্যের সাফল্যের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে হওয়া স্বাভাবিক। তাই প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।

পেশাদারি সহায়তা নেওয়া লজ্জার নয়

বিষণ্নতা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের কাছে যাওয়া উচিত।
এটা দুর্বলতা নয়, নিজেকে বাঁচানোর বুদ্ধিমত্তা।কাটিয়ে উঠুন বিষণ্নতা: সহজ কিছু পরামর্শ বলা দরকার

বিষণ্নতা কোনও একদিনে আসে না, আবার একদিনেই যায়ও না। কিন্তু ছোট ছোট যত্ন আর সচেতনতা আমাদের টেনে আনে আলোয়। মনে রাখবেন, আপনি একা নন, আপনি গুরুত্বপূর্ণ। আর আপনার হাসিটা পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে। ফলে হাসি বন্ধ করা যাবে না।