মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:৪১ পূর্বাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ‘মায়ের ডাক’-এর

  • হালনাগাদ সময় : ১২:১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করার পক্ষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণার দাবি জানিয়েছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’। সংগঠনটির মতে, অপরাধ দমনের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশের আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির জন্য এক বিরাট হুমকি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। এসব নৃশংস ঘটনার পর হাজারো পরিবার আজও তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান পেতে, ঘটনার সত্যতা জানতে এবং ন্যায়বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বেদনা কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়, বরং তাদের জীবনের এক নির্মম ও নিষ্ঠুর বাস্তবত্তা।

এমন একটি কালো ইতিহাসের পরেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থেকে ক্রসফায়ারের পক্ষে কথা বলা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মন্তব্য করেছে ‘মায়ের ডাক’। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে একপ্রকার বৈধতা বা সম্মতি দেওয়ার শামিল, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ভিত্তিকে গুঁড়িয়ে দেয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, যেকোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তার জীবন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। যেকোনো অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে হবে এবং স্বাধীন আদালতের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন করতে হবে। নাগরিকদের জীবন রক্ষা করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব, বিচারবহির্ভূত উপায়ে তা কেড়ে নেওয়া নয়।

সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সংবিধানে আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেও জীবনের অধিকার রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, অপরাধ দমনের কোনো বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ক্রসফায়ারকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

টোকিওতে আজ বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠক, বাণিজ ও বিনিয়োগে বিশেষ জোর

26 October 2026

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে আরব আমিরাতের আমন্ত্রণ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ‘মায়ের ডাক’-এর

হালনাগাদ সময় : ১২:১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করার পক্ষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণার দাবি জানিয়েছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’। সংগঠনটির মতে, অপরাধ দমনের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশের আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির জন্য এক বিরাট হুমকি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। এসব নৃশংস ঘটনার পর হাজারো পরিবার আজও তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান পেতে, ঘটনার সত্যতা জানতে এবং ন্যায়বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বেদনা কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়, বরং তাদের জীবনের এক নির্মম ও নিষ্ঠুর বাস্তবত্তা।

এমন একটি কালো ইতিহাসের পরেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থেকে ক্রসফায়ারের পক্ষে কথা বলা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মন্তব্য করেছে ‘মায়ের ডাক’। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে একপ্রকার বৈধতা বা সম্মতি দেওয়ার শামিল, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ভিত্তিকে গুঁড়িয়ে দেয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, যেকোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তার জীবন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। যেকোনো অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে হবে এবং স্বাধীন আদালতের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন করতে হবে। নাগরিকদের জীবন রক্ষা করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব, বিচারবহির্ভূত উপায়ে তা কেড়ে নেওয়া নয়।

সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সংবিধানে আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেও জীবনের অধিকার রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, অপরাধ দমনের কোনো বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ক্রসফায়ারকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

Share this news as a Photo Card