অসুস্থ স্ত্রীর ক্লান্তি কাটাতে আর পাঁচ বছরের ফুটফুটে সন্তানকে আনন্দ দিতে সমুদ্রের শহরে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন নূর আলম। তবে সেই আনন্দভ্রমণই এক লহমায় পরিণত হলো দুঃসহ ট্র্যাজেডিতে। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, একমাত্র ছেলে এবং শ্বশুরবাড়ির আরও চার সদস্যকে হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
নিহতরা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), একমাত্র ছেলে ফাইজান নূর (৫), শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইশরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)।
নূর আলমের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গাজীরপাড় গ্রামে। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার পদে কর্মরত থাকায় গত আট বছর ধরে পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন নূর আলম। পরদিন শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁরা কক্সবাজার যান এবং ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ওঠেন। তবে অফিসের জরুরি তাগিদে ১৬ অক্টোবর নূর আলম একাই চুয়াডাঙ্গায় ফিরে যান। পরদিন সকালে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন আর বেঁচে নেই। মুহূর্তের ব্যবধানে সাজানো সংসার ও স্বজনদের হারিয়ে এখন গভীর শোকের সাগরে ভাসছেন তিনি।

























