দৈনন্দিন জীবনে কথার সত্যতা নিশ্চিত করতে বা গুরুত্ব বাড়াতে অনেকেই কসম বা শপথ করে থাকেন। অনেক সময় মানুষ আরও এক ধাপ এগিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফ মাথায় রেখে বা হাত দিয়ে স্পর্শ করে কসম করেন। তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কসম বা এর সমার্থক শব্দ উচ্চারণ না করে শুধু কোরআন শরিফ মাথায় নিয়ে বা স্পর্শ করে কোনো অঙ্গীকার করলে তা কসম হিসেবে গণ্য হয় না। তবে কেউ যদি ‘কোরআন স্পর্শ করে কসম করছি’ কিংবা ‘কোরআনের কসম’ বলে, তবে তা কসম হিসেবে কার্যকর হয়ে যায়। এ ছাড়া ‘কিরা’ বা সমার্থক কোনো আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করলেও কসম সংঘটিত হয়।
কোরআন শরিফ স্পর্শ করে কসম করা জায়েজ হলেও হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইসলামে কসমের প্রয়োজন হলে তা কেবল মহান আল্লাহর নামেই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিনা প্রয়োজনে বা কথায় কথায় কসম করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন হলো, কেউ যদি পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে কোনো কাজের শপথ করার পর তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার করণীয় কী? এ বিষয়ে ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, কোরআন শরিফ ছুঁয়ে আল্লাহর নামে করা শপথও অন্যান্য সাধারণ কসমের মতোই গণ্য হয়। আল্লাহর নামে কল্যাণকর কোনো কাজের শপথ করলে তা পালনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। তবে শপথ করা কাজটি যদি অকল্যাণকর হয়, তবে তা ভঙ্গ করে বিপরীত কাজটি করাই উত্তম। এ ক্ষেত্রে কসম ভঙ্গের কাফফারা আদায় করতে হবে। এমনকি কাজটি কল্যাণকর হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ তা রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে তাকেও কসম ভঙ্গের কাফফারা আদায় করতে হবে।
কসম ভঙ্গের কাফফারা সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, এর জন্য দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা তৃপ্তিভরে খাবার খাওয়াতে হবে কিংবা তাদের এক জোড়া করে পরিধেয় বস্ত্র দিতে হবে। অথবা এর সমপরিমাণ অর্থ বা খাবারের মূল্য প্রদান করতে হবে। যদি কারও এই সামর্থ্য না থাকে, তবে তাকে লাগাতার তিন দিন রোজা রাখতে হবে। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৮৯ নম্বর আয়াতে এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন কসমের জন্য পাকড়াও করেন না, বরং যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে কর, তার জন্য পাকড়াও করেন।


























