হজ ইসলামের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এটি শুধুমাত্র সেইসব মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ, যাদের আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি পূর্ণ শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে। কেবল অর্থ থাকলেই হয় না, হজের কঠিন শারীরিক পরিশ্রম মোকাবিলা করার মতো সামর্থ্য থাকাও আবশ্যিক। হজের মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান মক্কা ও মদিনায় একত্রিত হন। হজের মূল ইবাদতগুলোর সময় অতিরিক্ত গরম, প্রচুর মানুষের ভিড় এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে নিজেদের সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। শারীরিক ফিটনেস ছাড়া এই পবিত্র যাত্রা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই হজ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। অননুমোদিত হজ ঠেকানো, ভিড় ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, তীব্র গরমে স্বস্তি দেওয়া এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাদের নানামুখী উদ্যোগ রয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সময়সীমা কমিয়ে আনার কারণে সেখানে প্রচণ্ড জনস্রোত ও ভিড় তৈরি হয়, যা থেকে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে চলাচলের বিষয়টিও বেশ চ্যালেঞ্জিং।
সৌদি সরকার ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে হজযাত্রীদের শারীরিক যোগ্যতার ওপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে থাকে। সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সনদ বা ফিজিক্যাল ফিটনেস ছাড়া ভিসা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজের অনুমতি পান না। গুরুতর মানসিক অসুস্থতা, স্নায়ুরোগ কিংবা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদেরও সৌদি প্রশাসন হজে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং বর্তমানে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন রোগীরাও এই নিয়মের আওতাভুক্ত।
অক্ষম ও মারাত্মক অসুস্থ ব্যক্তিদের হজে যাওয়া রোধে বিভিন্ন সুরক্ষা মূলক ব্যবস্থা থাকার পরও ২০২৬ সালে হাজিদের বিমা বহির্ভূত ব্যয় পরিশোধসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নানা ধরনের নতুন জটিলতা ও বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


























