কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ পচন থেকে রক্ষা করতে সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কারিগরি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রণোদনা ও জলবায়ু ফান্ডের অর্থে কেনা এসব মেশিনে নির্ধারিত মানের বদলে লোকাল কারখানায় তৈরি নিম্নমানের এবং অতিরিক্ত ওয়াটের মোটর ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন মেশিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নির্দিষ্ট ক্ষমতার মোটর ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। নামসর্বস্ব ও অনুমোদনহীন মোটর ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণের নির্ধারিত সুফল তো মিলছেই না, বরং বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী সৌরবিদ্যুৎ বা সোলারাইজেশন পরিকল্পনার সঙ্গে এই নিম্নমানের মোটরগুলোর ব্যবহার সাংঘর্ষিক হওয়ায় পুরো প্রকল্পটিই এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সঠিক মাত্রায় আলো ও বাতাস চলাচলের অভাবে অনেক এলাকার পেঁয়াজ ইতোমধ্যে পচে নষ্ট হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে সারা দেশে এ ধরনের হাজার হাজার মেশিন বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। প্রধান প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে এসব মেশিন বিতরণ করা হলেও শুরু থেকেই তদারকির অভাব ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। নামমাত্র মূল্যের নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে একটি চক্র সরকারের কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষকদের প্রণোদনা ও সহায়তার নামে এই ধরনের নিম্নমানের প্রযুক্তি সরবরাহ করায় সরকারের মহৎ উদ্যোগটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অবিলম্বে এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং কৃষকদের প্রকৃত ভোগান্তি লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।


























