মাত্র কয়েকটি সায়ন দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বিশাল আকৃতির বাগান গড়ে তুলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের এক ফলচাষি। ক্ষিরসাপাত আমের সমমানের স্বাদ, আকর্ষণীয় আকার এবং মৌসুমের শেষ দিকে পাকার বৈশিষ্ট্যের কারণে চাষিদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ‘কল্যাণভোগ’ নামের নতুন এই জাতের আম। আম উৎপাদনের পাশাপাশি চারা ও সায়ন বিক্রি করেও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চাষিরা।
গোমস্তাপুরের বাগানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসেও গাছের ডালে ঝুলছে সুস্বাদু কল্যাণভোগ আম। ভারত থেকে সংগৃহীত সায়নের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ শুরু হলেও বর্তমানে তা আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত হয়ে বৃহৎ বাগানে রূপ নিয়েছে। চাষিদের মতে, এই জাতের আমের গড় ওজন যথেষ্ট ভালো এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হয়।
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের দিকে এই আম পরিপক্ব হওয়ায় বাজারে এর বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়, যা চাষিদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাগানে সরাসরি ক্রেতাদের ভিড় জমার পাশাপাশি অনলাইনেও এর ভালো বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারে এই আম বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
আম বিক্রির পাশাপাশি কল্যাণভোগ আমের সায়ন ও মানসম্মত চারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণও এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন উদ্যোক্তা ও চাষিরা সায়ন ও চারা সংগ্রহ করতে আসায় এর পরিধি দিন দিন আরও প্রসারিত হচ্ছে। কৃষকদের এই উদ্যোগ দেশজুড়ে ফলচাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।


























