পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে প্রবাসীর ২২ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা নারী ও শিশুসহ চারজনকে জিম্মি করে মারধর এবং স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাড়িতে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে বাড়ির দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় প্রবাসী মাহিনের স্ত্রী রুমা বেগম, পুত্রবধূ রেজবি, ছেলে নাইম এবং দুই বছর বয়সী শিশু তাসফিরকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পুত্রবধূকে দুর্বৃত্তরা হেনস্তার চেষ্টা করলে নাইম তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তার পায়ে গুলি করে। পরে শিশুটির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা ও একটি আইফোন লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নাইমসহ আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী রুমা বেগম জানান, তার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং ডাকাতদল ঘরে ঢুকে তাদের জিম্মি করে এই নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


























