মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:০৪ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনের মিলনায়তনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি ওঠে। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহমান খান।

সভায় পুরান ঢাকার শ্যামবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদাবাজির প্রলয় চলছে। ট্রাক থেকে পণ্য নামাতে চাঁদা দিতে হয়, আবার ট্রাকে তুলতেও চাঁদা দিতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যও এদের সঙ্গে যোগসাজশে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেট ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে শোষণ করছে। তিন টাকার মোড়কে ৪০ টাকা বাড়তি দাম নিচ্ছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার এসব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন বলেন, ‘ব্যবসায়ী সমাজকে চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে সরকারকে বড় আমদানিকারকদের সঙ্গে বসতে হবে, কারণ সমস্যা মূলত পাইকারি পর্যায়ে নয়, শিকড়টা আরও ওপরে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না। তবে তারা মনে করেন, বাজার তদারকির ভারসাম্য রাখতে হবে, যাতে শুধু খুচরা পর্যায়ে নয়, বড় মিলমালিক ও করপোরেট ব্যবসায়ীরাও জবাবদিহির আওতায় আসে।

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক আবদুর রহমান খান বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও পণ্য পরিবহনে বাধা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা।’

তিনি আরও আহ্বান জানান, খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করুন। এতে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা আস্থা দুটিই ফিরে আসবে।’

মতবিনিময় সভায় ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি ও বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রমজানের আগে বাজার থেকে চাঁদাবাজদের প্রভাব নির্মূল করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

হালনাগাদ সময় : ০৫:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনের মিলনায়তনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি ওঠে। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহমান খান।

সভায় পুরান ঢাকার শ্যামবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদাবাজির প্রলয় চলছে। ট্রাক থেকে পণ্য নামাতে চাঁদা দিতে হয়, আবার ট্রাকে তুলতেও চাঁদা দিতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যও এদের সঙ্গে যোগসাজশে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেট ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে শোষণ করছে। তিন টাকার মোড়কে ৪০ টাকা বাড়তি দাম নিচ্ছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার এসব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন বলেন, ‘ব্যবসায়ী সমাজকে চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে সরকারকে বড় আমদানিকারকদের সঙ্গে বসতে হবে, কারণ সমস্যা মূলত পাইকারি পর্যায়ে নয়, শিকড়টা আরও ওপরে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না। তবে তারা মনে করেন, বাজার তদারকির ভারসাম্য রাখতে হবে, যাতে শুধু খুচরা পর্যায়ে নয়, বড় মিলমালিক ও করপোরেট ব্যবসায়ীরাও জবাবদিহির আওতায় আসে।

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক আবদুর রহমান খান বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও পণ্য পরিবহনে বাধা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা।’

তিনি আরও আহ্বান জানান, খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করুন। এতে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা আস্থা দুটিই ফিরে আসবে।’

মতবিনিময় সভায় ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি ও বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রমজানের আগে বাজার থেকে চাঁদাবাজদের প্রভাব নির্মূল করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

Share this news as a Photo Card