জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ ও সুদৃঢ়। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, লি কুয়ান ইউ-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বমঞ্চে সমৃদ্ধির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের ইতিহাসে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অনন্য নজির। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগে সিঙ্গাপুর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় তিনি ভোলাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বিপুল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সময়োপযোগী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, জাহাজ ও নৌযান নির্মাণ সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশ ও ড্রাই ডক স্থাপনে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রসার, তৈরি পোশাক শিল্পের রূপান্তর, সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময়, সংবিধান সংশোধন কমিটির অগ্রগতি এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুর দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















