মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন জান্নাত আক্তার (১৮) ও মোসা. গুলবাহার (৬০)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বকুলতলা সড়কে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজিফা আক্তার (৮), তাহমিনা (৮) ও আয়শা সিদ্দিকা (৯) একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় জান্নাত আক্তার ও গুলবাহার নানা ছলে তাদের সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত জান্নাত শিশু তাহমিনার হাত ধরে জোরপূর্বক টেনে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তাঁরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং ওই দুই নারীকে আটক করে থানায় খবর দেন।
আটক জান্নাত আক্তার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণখোলা গ্রামের ইউনুস শেখের মেয়ে। তিনি বর্তমানে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। অপর আটক গুলবাহার সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কুসুমপুর গ্রামের শেখ লাল চান মিয়ার মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী মহিউদ্দিন হাওলাদার জানান, দুই নারী টাকার লোভ দেখিয়ে শিশু তাহমিনাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় তাঁদের আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন।
পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলী হোসেন বলেন, বিদ্যালয় ছুটির পরপরই এই ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন সোমবারও অভিযুক্ত দুই নারীকে বিদ্যালয়ের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। তখন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিলেন। তার পরদিনই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, আটক দুই নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

























