মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৫০ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার ১১ বছর পর ঘাতক স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জামালপুরের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় দেওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার লাহারিকান্দা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, তমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় জনি মিয়ার। বিয়ের চার মাস পর ঢাকায় গিয়ে অটোরিকশা কেনার অজুহাতে শাশুড়ির কাছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন জনি। দরিদ্র তমার পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

২০১৫ সালের ১৯ মার্চ সকালে সাংসারিক বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে জনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে নিয়ে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

খবর পেয়ে স্বজনেরা এসে মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে স্পষ্ট শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে নিহতের মা উম্মে কুলছুম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, দীর্ঘ শুনানি ও উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ী শহরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী নেতাকে গুলি

27 October 2026

জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

হালনাগাদ সময় : ০৯:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার ১১ বছর পর ঘাতক স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জামালপুরের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় দেওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার লাহারিকান্দা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, তমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় জনি মিয়ার। বিয়ের চার মাস পর ঢাকায় গিয়ে অটোরিকশা কেনার অজুহাতে শাশুড়ির কাছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন জনি। দরিদ্র তমার পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

২০১৫ সালের ১৯ মার্চ সকালে সাংসারিক বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে জনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে নিয়ে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

খবর পেয়ে স্বজনেরা এসে মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে স্পষ্ট শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে নিহতের মা উম্মে কুলছুম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, দীর্ঘ শুনানি ও উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card