মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:৫০ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

মিয়ানমারের অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান: ২ হাজারের বেশি আটক, জব্দ হলো স্টারলিংক সরঞ্জাম

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি বড় অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে এবং বেশ কিছু স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনাল জব্দ করেছে। গত সোমবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘মায়ানমা অ্যালিন’ এ খবর জানিয়েছে।

‘মায়ানমা অ্যালিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ জুয়া ও সীমান্তপারের সাইবার অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত সাইবার অপরাধ কেন্দ্র ‘কে কে পার্কে’ এই অভিযান চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী কে কে পার্কের ২৬০টিরও বেশি ভবনকে অনিবন্ধিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ৩০ সেট স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনালসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এই অভিযানে ২ হাজার ১৯৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁরা কোন দেশের নাগরিক, তা জানানো হয়নি।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে প্রতারণা করার জন্য দায়ী নানা স্ক্যাম অপারেশন মিয়ানমার থেকে পরিচালিত হয়, যা সাধারণত অনলাইনে রোমান্টিক প্রলোভন ও ভুয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এই কেন্দ্রগুলো বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের সময় ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের বৈধ চাকরির প্রলোভন দেখায়, এরপর বন্দী করে রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে বাধ্য করে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কম্বোডিয়ার একটি বড় সাইবার স্ক্যাম গ্যাংয়ের সন্দেহভাজন সংগঠকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরই এই স্ক্যাম অপারেশনগুলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

কে কে পার্ক মিয়ানমারের থাইল্যান্ড সীমান্তের কায়িন রাজ্যের মায়াওয়াড্ডি শহরে অবস্থিত। এই এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক সরকারের তেমন একটা নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীগুলোর প্রভাব রয়েছে। সোমবার রাতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন অভিযোগ করেন, কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা কে কে পার্ক পরিচালিত স্ক্যাম প্রকল্পগুলোর সঙ্গে জড়িত। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন—যারা সামরিক সরকারবিরোধী চলমান সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ—তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

স্টারলিংক বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানির একটি উদ্যোগ। মিয়ানমারে এই কোম্পানির লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে অবৈধভাবে শত শত টার্মিনাল প্রবেশ করেছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী, তাদের টার্মিনাল ব্যবহার করে ‘মানহানিকর, প্রতারণামূলক, অশ্লীল বা বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড’ পরিচালনা করা নিষিদ্ধ।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও চীনের চাপের মুখে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার একবার স্ক্যাম কেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছিল। স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত সেই অভিযানের মাধ্যমে পাচারের শিকার কয়েক হাজার মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

এআইনির্ভর পর্যটনশিল্প গড়তে ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক মেলা

27 October 2026

বাঘাইছড়ি সীমান্তে ১৭১৯ কেজি রসুনসহ আটক ২, গাড়ি জব্দ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

মিয়ানমারের অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান: ২ হাজারের বেশি আটক, জব্দ হলো স্টারলিংক সরঞ্জাম

হালনাগাদ সময় : ১০:৩৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি বড় অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে এবং বেশ কিছু স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনাল জব্দ করেছে। গত সোমবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘মায়ানমা অ্যালিন’ এ খবর জানিয়েছে।

‘মায়ানমা অ্যালিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ জুয়া ও সীমান্তপারের সাইবার অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত সাইবার অপরাধ কেন্দ্র ‘কে কে পার্কে’ এই অভিযান চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী কে কে পার্কের ২৬০টিরও বেশি ভবনকে অনিবন্ধিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ৩০ সেট স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনালসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এই অভিযানে ২ হাজার ১৯৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁরা কোন দেশের নাগরিক, তা জানানো হয়নি।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে প্রতারণা করার জন্য দায়ী নানা স্ক্যাম অপারেশন মিয়ানমার থেকে পরিচালিত হয়, যা সাধারণত অনলাইনে রোমান্টিক প্রলোভন ও ভুয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এই কেন্দ্রগুলো বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের সময় ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের বৈধ চাকরির প্রলোভন দেখায়, এরপর বন্দী করে রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে বাধ্য করে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কম্বোডিয়ার একটি বড় সাইবার স্ক্যাম গ্যাংয়ের সন্দেহভাজন সংগঠকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরই এই স্ক্যাম অপারেশনগুলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

কে কে পার্ক মিয়ানমারের থাইল্যান্ড সীমান্তের কায়িন রাজ্যের মায়াওয়াড্ডি শহরে অবস্থিত। এই এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক সরকারের তেমন একটা নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীগুলোর প্রভাব রয়েছে। সোমবার রাতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন অভিযোগ করেন, কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা কে কে পার্ক পরিচালিত স্ক্যাম প্রকল্পগুলোর সঙ্গে জড়িত। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন—যারা সামরিক সরকারবিরোধী চলমান সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ—তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

স্টারলিংক বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানির একটি উদ্যোগ। মিয়ানমারে এই কোম্পানির লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে অবৈধভাবে শত শত টার্মিনাল প্রবেশ করেছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী, তাদের টার্মিনাল ব্যবহার করে ‘মানহানিকর, প্রতারণামূলক, অশ্লীল বা বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড’ পরিচালনা করা নিষিদ্ধ।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও চীনের চাপের মুখে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার একবার স্ক্যাম কেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছিল। স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত সেই অভিযানের মাধ্যমে পাচারের শিকার কয়েক হাজার মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

Share this news as a Photo Card