মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৩৩ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বিগ-বি জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান।

নতুন এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোকে সমন্বিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে শিল্পের মূল্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উদীয়মান অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানো, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিগ-বি উদ্যোগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

নতুন কাঠামোর আওতায় দুই প্রধানমন্ত্রী চারটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন। এগুলো হলো যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিধি প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় শিল্পের বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মাতারবাড়ী হবে শিল্প ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

বিগ-বি উদ্যোগের সম্প্রসারিত কাঠামোর অন্যতম প্রধান অংশ হলো মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে সমন্বিত পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

যৌথ বিবৃতিতে শিল্পের মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করতে গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধার সঙ্গে শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের সমন্বয়ের ফলে পণ্য পরিবহন আরও কার্যকর হবে, সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ উন্নত হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব স্বীকার করে তাঁরা বলেছেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ী শহরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী নেতাকে গুলি

27 October 2026

জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বিগ-বি জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান

হালনাগাদ সময় : ০৯:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান।

নতুন এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোকে সমন্বিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে শিল্পের মূল্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উদীয়মান অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানো, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিগ-বি উদ্যোগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

নতুন কাঠামোর আওতায় দুই প্রধানমন্ত্রী চারটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন। এগুলো হলো যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিধি প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় শিল্পের বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মাতারবাড়ী হবে শিল্প ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

বিগ-বি উদ্যোগের সম্প্রসারিত কাঠামোর অন্যতম প্রধান অংশ হলো মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে সমন্বিত পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

যৌথ বিবৃতিতে শিল্পের মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করতে গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধার সঙ্গে শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের সমন্বয়ের ফলে পণ্য পরিবহন আরও কার্যকর হবে, সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ উন্নত হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব স্বীকার করে তাঁরা বলেছেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share this news as a Photo Card