সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীর চুম্বনের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ে ভারতের এক যুবক দেশটির কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আটক ওই যুবকের নাম সাহাবুদ্দিন শেখ। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৩ সাল থেকে বিগত তিন বছর ধরে তিনি সৌদি আরবের কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে প্রবাসে কর্মরত সাহাবুদ্দিন মক্কার একটি মসজিদে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশি যুগলের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের দৃশ্যটি দেখতে পান। ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত মুঠোফোন দিয়ে সেই দৃশ্য ভিডিও করেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সৌদি পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
মুর্শিদাবাদে অবস্থানরত সাহাবুদ্দিনের পরিবার জানায়, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল নিছক কৌতূহল ও মজা করার জন্যই তিনি ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু এই সামান্য ভুলের পরিণতি যে এত ভয়ংকর হতে পারে, তা সাহাবুদ্দিন বা তাঁর পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর পাঠানো অর্থেই সংসার চলত। দীর্ঘ তিন বছর তিনি কারাগারে থাকায় বর্তমানে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
সৌদিতে ওই বাংলাদেশি যুগলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, তাঁর ছেলে কোনো বড় অপরাধ করেনি; কেবল একটি ভিডিও প্রকাশ করায় এভাবে বছরের পর বছর জেল খাটতে হচ্ছে। এখন ছেলের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। পরিবারটি সাহাবুদ্দিনকে সৌদির কারাগার থেকে মুক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও কূটনৈতিক মাধ্যমে আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির এবং সুইটি আখতার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে ধর্মীয় পবিত্রতা চরমভাবে লঙ্ঘনের অপরাধে মক্কা অঞ্চলে তাঁদের এই সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর করা হয়।
এদিকে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মাত্রা, আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ এবং তাঁদের মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে ইতিমধ্যে সৌদি আরব সরকারকে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।


























