মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:২২ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর চুক্তি চূড়ান্ত হতে চলেছে, যা বাংলাদেশের জন্য মিশ্র বার্তা দিচ্ছে।

  • হালনাগাদ সময় : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৫-১৬ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই হার মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য ২০ শতাংশ শুল্কের চেয়েও কম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিন্ট-এর মাধ্যমে রয়টার্স জানিয়েছে যে, চলতি মাসের শেষে আসন্ন আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ফলস্বরূপ বাংলাদেশ গত আগস্টে তার ওপর থেকে শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছিল। ঢাকা এই হারকে আরও কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নয়াদিল্লির আগে ঢাকা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে—এমন কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যায়নি।

তবে রপ্তানিকারকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত ও বাংলাদেশের শুল্কের ব্যবধান যদি ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানিতে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

উল্টো তারা মনে করছেন, ভারত যদি যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ায়, তবে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা কিছুটা কমে যেতে পারে, ফলে রপ্তানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে রপ্তানিকারকেরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে যদি এই শুল্কের ব্যবধান বজায় থাকে, তবে ভারতের ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বাড়তি বিনিয়োগ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান বাবলু গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত যদি শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে ৫ শতাংশ এগিয়ে যায়, তাতে ‘কিছুটা সমস্যা হলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, তৈরি পোশাক খাতে ভারত বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী নয়, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই দেশের পণ্যের ধরন আলাদা। নিটওয়্যারে কিছুটা প্রতিযোগিতা থাকলেও ওভেনে তারা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

ইনামুল আরও যোগ করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রে বেশি রপ্তানি করলে ইউরোপের বাজার বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সহজ হবে। আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি শুল্কের কারণে ভারত কম মূল্যে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করত। এখন তারা হয়তো সেই প্রতিযোগিতায় যাবে না, যা বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতিকে কিছুটা সহজ করবে।

তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে শাশা ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, ভারতের শুল্কহার ১৫ শতাংশ হলেও ‘স্বল্পমেয়াদে এটি বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরির আশঙ্কা আছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রপ্তানির বড় অংশ হলো হোম টেক্সটাইল, যে খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ততটা শক্তিশালী নয়। তবে এই শুল্ক ব্যবধান দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে ভারত ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, যা আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই মত দিয়েছেন—কিছুটা সমস্যা হলেও ভারত–মার্কিন চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেকে ৭ দিনের জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট স্থগিত

28 October 2026

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর চুক্তি চূড়ান্ত হতে চলেছে, যা বাংলাদেশের জন্য মিশ্র বার্তা দিচ্ছে।

হালনাগাদ সময় : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৫-১৬ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই হার মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য ২০ শতাংশ শুল্কের চেয়েও কম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিন্ট-এর মাধ্যমে রয়টার্স জানিয়েছে যে, চলতি মাসের শেষে আসন্ন আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ফলস্বরূপ বাংলাদেশ গত আগস্টে তার ওপর থেকে শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছিল। ঢাকা এই হারকে আরও কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নয়াদিল্লির আগে ঢাকা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে—এমন কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যায়নি।

তবে রপ্তানিকারকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত ও বাংলাদেশের শুল্কের ব্যবধান যদি ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানিতে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

উল্টো তারা মনে করছেন, ভারত যদি যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ায়, তবে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা কিছুটা কমে যেতে পারে, ফলে রপ্তানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে রপ্তানিকারকেরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে যদি এই শুল্কের ব্যবধান বজায় থাকে, তবে ভারতের ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বাড়তি বিনিয়োগ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান বাবলু গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত যদি শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে ৫ শতাংশ এগিয়ে যায়, তাতে ‘কিছুটা সমস্যা হলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, তৈরি পোশাক খাতে ভারত বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী নয়, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই দেশের পণ্যের ধরন আলাদা। নিটওয়্যারে কিছুটা প্রতিযোগিতা থাকলেও ওভেনে তারা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

ইনামুল আরও যোগ করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রে বেশি রপ্তানি করলে ইউরোপের বাজার বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সহজ হবে। আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি শুল্কের কারণে ভারত কম মূল্যে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করত। এখন তারা হয়তো সেই প্রতিযোগিতায় যাবে না, যা বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতিকে কিছুটা সহজ করবে।

তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে শাশা ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, ভারতের শুল্কহার ১৫ শতাংশ হলেও ‘স্বল্পমেয়াদে এটি বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরির আশঙ্কা আছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রপ্তানির বড় অংশ হলো হোম টেক্সটাইল, যে খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ততটা শক্তিশালী নয়। তবে এই শুল্ক ব্যবধান দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে ভারত ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, যা আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই মত দিয়েছেন—কিছুটা সমস্যা হলেও ভারত–মার্কিন চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

Share this news as a Photo Card