ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করবে তারা শুধু বাংলাদেশের সরকারের নয়, বরং ২০ কোটি মানুষের আসল বন্ধু—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর নগরীর ডিসির মোড় এলাকায় ঐতিহাসিক শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে যেভাবে ফারাক্কা চুক্তি করেছিলেন, ১২ ডিসেম্বরের পর সেভাবেই চুক্তিটি পুনঃনবায়ন করা হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি জানান, ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে গত জুনে কলকাতায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে দেশে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রজেক্টের সম্ভাব্যতা যাচাই পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই ডিপিপি (ডিপিপির খসড়া) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার কারিগরি পরামর্শকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় ও সেচ সংকটে থাকা মানুষ যেন শত বছর ধরে এ প্রকল্পের সুফল পায়, সেভাবেই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
শ্যামাসুন্দরী খালের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিভাগীয় শহরের খাল, নদী ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখননের কাজ পুরোদমে চলছে। শহরের জলাশয়গুলোকে প্রাণবন্ত করা এবং সামগ্রিক পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখাই এ বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ১৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাকি ৮২ শতাংশ কাজ চূড়ান্তভাবে শেষ করা হবে।
সচেতনতার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, খালের পাশের কিছু অধিবাসী এখনো রাতে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কঠোর নজরদারি করা হবে। খালে বর্জ্য ফেললে জরিমানার আওতায় আনা হবে এবং খালের দুই পাশে পথচারীদের হাঁটার সুব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়নকাজে যেকোনো বাধার বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিলে ব্যক্তি, দল, মত বা ধর্ম বিবেচনা করা হবে না; বাধা প্রদানকারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পে রংপুর নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















