বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু সনদ ও চাকরিভিত্তিক শিক্ষার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষা মানে কেবল কর্মসংস্থানমুখী পড়াশোনা নয়। যারা শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের জন্য উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সব শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী না করে কর্মসংস্থানভিত্তিক, দক্ষতানির্ভর ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের একটি বড় অংশের জনশক্তি শিক্ষিত বেকারত্বের শিকার। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হতে পারে না, এর জন্য শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন জরুরি। আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মেধা ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করছে। অথচ এসব ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটা জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছিলেন শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ তৎকালীন ছাত্রনেতারা। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টি পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং আইন পাসের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্পর্কে তিনি জানান, কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমির ওপর আধুনিক আবাসিক সুবিধাসহ নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সরকার শিক্ষার প্রসারে এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে।





















