মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:০৮ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চীনের ৯ শীর্ষ জেনারেল বরখাস্ত

  • হালনাগাদ সময় : ১১:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির নয়জন শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে এবং একই সঙ্গে তাদের সামরিক বাহিনী থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে চীনা সামরিক বাহিনীর ভেতরে এটি অন্যতম বড় একটি পদক্ষেপ। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারাত্মক আর্থিক অপরাধের সন্দেহে ওই নয়জন জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই ছিলেন তিন তারকা জেনারেল এবং দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম—কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।

এই জেনারেলদের বরখাস্ত করার ঘটনাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের অংশও হতে পারে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এবং নতুন সদস্যদের ভোটে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই এই জেনারেলদের বরখাস্তের ঘটনা ঘটল।

যে নয়জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান হি ওয়েইডং, সিএমসি’র রাজনৈতিক বিভাগের ডিরেক্টর মিয়াও হুয়া, সিএমসি’র রাজনৈতিক বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডেপুটি ডিরেক্টর হে হংজুন, সিএমসি’র জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ডেপুটি ডিরেক্টর ওয়াং জিউবিন, ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডার লিন জিয়াংইয়াং, সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার কিন শুতং, নৌবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার ইয়ুআন হুয়াজি, রকেট ফোর্সেস কমান্ডার ওয়াং হৌবিন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স কমান্ডার ওয়াং চুনিং।

এই নয়জনের মধ্যে হি ওয়েইডং ছিলেন চীনের সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরে তিনিই ছিলেন সিএমসি’র চেয়ারম্যান।

গত মার্চ মাসে তাকে শেষবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে জনসম্মুখে তার অনুপস্থিতির কারণে এই জল্পনা বাড়ছিল যে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের শুদ্ধিকরণের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ ফোরাম পলিটব্যুরোরও সদস্য ছিলেন। তিনিই পলিটব্যুরোর প্রথম সদস্য যিনি এ ধরনের তদন্তের আওতায় এলেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নয় ব্যক্তি দলের শৃঙ্খলার মারাত্মক লঙ্ঘন করেছেন এবং দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মারাত্মক অপরাধের দায়বদ্ধতায় সন্দেহভাজন। এতে আরও বলা হয়, তারা এখন সামরিক বাহিনীর বিচারের মুখোমুখি হবেন। তাদের এই শাস্তি দল এবং সামরিক বাহিনীর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অর্জন।

সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি) আগে থেকেই এমন অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। জুলাই মাসে তারা সামরিক বাহিনী থেকে ‘দূষিত প্রভাব’ দূর করতে এবং ক্যাডারদের জন্য কিছু অবশ্য পালনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করেছিল।

চীনে এর আগেও সামরিক বাহিনীর মধ্যে ছোট আকারে শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হয়েছিল। যাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংঘে ও লি শাংফুও রয়েছেন। অন্যদিকে, রকেট ফোর্সের শীর্ষ জেনারেলদেরও সরানো হয়েছে। বেসামরিক কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ২০২৩ সালে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের নিখোঁজ হওয়া। তার পরিবর্তে আসা লিউ জিয়ানচাউকেও জুলাই মাস থেকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।

চীনা রাজনীতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইন্সটিটিউটের ফেলো নেইর থমাস বিবিসি চাইনিজকে বলেন, শি জিনপিংয়ের শুদ্ধিকরণের অর্থ হলো নিজের শক্তি প্রদর্শন করা। তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, দুর্নীতিপরায়ণ ও অবিশ্বস্ত ক্যাডারদের বাদ দেওয়াটা পার্টির আত্ম-বিপ্লব, যাতে সংগঠন পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয় এবং অনির্দিষ্টকাল দেশ শাসনে সক্ষম থাকে। তিনি আরও বলেন, এই শুদ্ধিকরণ শাসনব্যবস্থাকে আরও কঠোর করে তুলতে পারে। এখন সবার নজর থাকবে ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দলের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কারা কারা অংশ নেন, সেদিকে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছর পর আবারও পর্দায় রজনীকান্ত ও নয়নতারা জুটি

28 October 2026

১৮ মাসের মধ্যেই চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চীনের ৯ শীর্ষ জেনারেল বরখাস্ত

হালনাগাদ সময় : ১১:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির নয়জন শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে এবং একই সঙ্গে তাদের সামরিক বাহিনী থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে চীনা সামরিক বাহিনীর ভেতরে এটি অন্যতম বড় একটি পদক্ষেপ। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারাত্মক আর্থিক অপরাধের সন্দেহে ওই নয়জন জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই ছিলেন তিন তারকা জেনারেল এবং দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম—কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।

এই জেনারেলদের বরখাস্ত করার ঘটনাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের অংশও হতে পারে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এবং নতুন সদস্যদের ভোটে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই এই জেনারেলদের বরখাস্তের ঘটনা ঘটল।

যে নয়জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান হি ওয়েইডং, সিএমসি’র রাজনৈতিক বিভাগের ডিরেক্টর মিয়াও হুয়া, সিএমসি’র রাজনৈতিক বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডেপুটি ডিরেক্টর হে হংজুন, সিএমসি’র জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ডেপুটি ডিরেক্টর ওয়াং জিউবিন, ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডার লিন জিয়াংইয়াং, সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার কিন শুতং, নৌবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার ইয়ুআন হুয়াজি, রকেট ফোর্সেস কমান্ডার ওয়াং হৌবিন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স কমান্ডার ওয়াং চুনিং।

এই নয়জনের মধ্যে হি ওয়েইডং ছিলেন চীনের সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরে তিনিই ছিলেন সিএমসি’র চেয়ারম্যান।

গত মার্চ মাসে তাকে শেষবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে জনসম্মুখে তার অনুপস্থিতির কারণে এই জল্পনা বাড়ছিল যে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের শুদ্ধিকরণের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ ফোরাম পলিটব্যুরোরও সদস্য ছিলেন। তিনিই পলিটব্যুরোর প্রথম সদস্য যিনি এ ধরনের তদন্তের আওতায় এলেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নয় ব্যক্তি দলের শৃঙ্খলার মারাত্মক লঙ্ঘন করেছেন এবং দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মারাত্মক অপরাধের দায়বদ্ধতায় সন্দেহভাজন। এতে আরও বলা হয়, তারা এখন সামরিক বাহিনীর বিচারের মুখোমুখি হবেন। তাদের এই শাস্তি দল এবং সামরিক বাহিনীর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অর্জন।

সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি) আগে থেকেই এমন অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। জুলাই মাসে তারা সামরিক বাহিনী থেকে ‘দূষিত প্রভাব’ দূর করতে এবং ক্যাডারদের জন্য কিছু অবশ্য পালনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করেছিল।

চীনে এর আগেও সামরিক বাহিনীর মধ্যে ছোট আকারে শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হয়েছিল। যাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংঘে ও লি শাংফুও রয়েছেন। অন্যদিকে, রকেট ফোর্সের শীর্ষ জেনারেলদেরও সরানো হয়েছে। বেসামরিক কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ২০২৩ সালে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের নিখোঁজ হওয়া। তার পরিবর্তে আসা লিউ জিয়ানচাউকেও জুলাই মাস থেকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।

চীনা রাজনীতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইন্সটিটিউটের ফেলো নেইর থমাস বিবিসি চাইনিজকে বলেন, শি জিনপিংয়ের শুদ্ধিকরণের অর্থ হলো নিজের শক্তি প্রদর্শন করা। তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, দুর্নীতিপরায়ণ ও অবিশ্বস্ত ক্যাডারদের বাদ দেওয়াটা পার্টির আত্ম-বিপ্লব, যাতে সংগঠন পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয় এবং অনির্দিষ্টকাল দেশ শাসনে সক্ষম থাকে। তিনি আরও বলেন, এই শুদ্ধিকরণ শাসনব্যবস্থাকে আরও কঠোর করে তুলতে পারে। এখন সবার নজর থাকবে ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দলের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কারা কারা অংশ নেন, সেদিকে।

Share this news as a Photo Card