মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:৩২ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দিনাজপুরে গোর-এ শহীদ বড়মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে মানববন্ধন

  • হালনাগাদ সময় : ০৬:১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড়মাঠ থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ও তারকাঁটার বেড়া অপসারণ করে মাঠটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শহরবাসী।

এ সময় ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া মাঠটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত দিনাজপুর পৌরসভা ও কাচারি গেটের মাঝামাঝি রেলগেট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গোর-এ শহীদ বড়মাঠ দিনাজপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ মাঠে এশিয়া উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদগাহ মিনারে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শত বছর ধরে মাঠটিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম, মেলা, জনসভা এবং ইসলামী জলসাসহ নানা আয়োজন হয়ে আসছে। এ মাঠে খেলাধুলা করেই অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখছেন।

তারা বলেন, একসময় দিনাজপুরের মানুষের খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই মাঠ। কিন্তু সেখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং মাঠের বড় অংশ তারকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ, চলাচল ও খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, ২০০৩ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ও মন্ত্রিপরিষদে গোর-এ শহীদ বড়মাঠ জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাসসহ অনেক ক্রীড়াবিদের উঠে আসার পেছনে এ মাঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে মাঠের এক কোণে সীমিত জায়গায় পাঁচটি ক্রিকেট একাডেমির কয়েক শ খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলন করছেন। মাঠের সিংহভাগ অংশ বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় খেলোয়াড়দের অনুশীলন এবং সাধারণ মানুষের খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুরুতে মাঠ সংস্কারের কথা বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। পরে নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য দিনাজপুর স্পোর্টস ভিলেজে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মাঠটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয় এবং সেখানে মাঠটিকে নিজেদের সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গোর-এ শহীদ বড়মাঠের তারকাঁটার বেড়া অপসারণ, জেলাবাসীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা, ঈদের নামাজ আদায়ের পরিবেশ বজায় রাখা এবং খেলাধুলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছর পর আবারও পর্দায় রজনীকান্ত ও নয়নতারা জুটি

28 October 2026

১৮ মাসের মধ্যেই চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দিনাজপুরে গোর-এ শহীদ বড়মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে মানববন্ধন

হালনাগাদ সময় : ০৬:১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড়মাঠ থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ও তারকাঁটার বেড়া অপসারণ করে মাঠটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শহরবাসী।

এ সময় ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া মাঠটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত দিনাজপুর পৌরসভা ও কাচারি গেটের মাঝামাঝি রেলগেট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গোর-এ শহীদ বড়মাঠ দিনাজপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ মাঠে এশিয়া উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদগাহ মিনারে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শত বছর ধরে মাঠটিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম, মেলা, জনসভা এবং ইসলামী জলসাসহ নানা আয়োজন হয়ে আসছে। এ মাঠে খেলাধুলা করেই অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখছেন।

তারা বলেন, একসময় দিনাজপুরের মানুষের খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই মাঠ। কিন্তু সেখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং মাঠের বড় অংশ তারকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ, চলাচল ও খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, ২০০৩ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ও মন্ত্রিপরিষদে গোর-এ শহীদ বড়মাঠ জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাসসহ অনেক ক্রীড়াবিদের উঠে আসার পেছনে এ মাঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে মাঠের এক কোণে সীমিত জায়গায় পাঁচটি ক্রিকেট একাডেমির কয়েক শ খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলন করছেন। মাঠের সিংহভাগ অংশ বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় খেলোয়াড়দের অনুশীলন এবং সাধারণ মানুষের খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুরুতে মাঠ সংস্কারের কথা বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। পরে নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য দিনাজপুর স্পোর্টস ভিলেজে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মাঠটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয় এবং সেখানে মাঠটিকে নিজেদের সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গোর-এ শহীদ বড়মাঠের তারকাঁটার বেড়া অপসারণ, জেলাবাসীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা, ঈদের নামাজ আদায়ের পরিবেশ বজায় রাখা এবং খেলাধুলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

Share this news as a Photo Card