মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:৪০ অপরাহ্ন | ৭ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ২২শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

থাইল্যান্ডে মিয়ানমার জান্তার পরিচয়পত্র প্রত্যাখ্যান করলেন ২১ লাখের বেশি কর্মী

  • হালনাগাদ সময় : ০২:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ডে কর্মরত মিয়ানমারের ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিক জান্তা সরকারের চালু করা নতুন ‘সার্টিফিকেট অব আইডেন্টিটি’ (সিআই) গ্রহণ না করে তা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরিবর্তে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) বিকল্প পরিচয়পত্র পাওয়ার দাবিতে তাঁরা অনলাইনে আয়োজিত এক গণভোটে অংশ নেন।

এই ভোটের মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকেরা থাই কর্তৃপক্ষকে বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তাঁরা জান্তা সরকারকে নয়, বরং এনইউজিকেই মিয়ানমারের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে বিবেচনা করেন।

বর্তমানে থাইল্যান্ডে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক কাজ করছেন। অভিবাসী সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এবার অন্তত ছয় লাখ শ্রমিকের জন্য জান্তার সিআই কার্ডের আবেদন করা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে সামরিক জান্তার অতিরিক্ত কর ও রেমিট্যান্স সংক্রান্ত নিপীড়নমূলক নিয়মের প্রতিবাদে অধিকাংশ শ্রমিক কেন্দ্রগুলো এড়িয়ে চলছেন। সমালোচকদের মতে, সিআই প্রক্রিয়ার নামে জান্তা সরকার মূলত চাঁদাবাজি করছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিআই কার্ড পেতে হলে শ্রমিকদের উপার্জিত আয়ের ২৫ শতাংশ জান্তা অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে হবে এবং ২ শতাংশ আয়কর প্রদান করতে হবে। শ্রমিকদের আশঙ্কা, এই অর্থ মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় ব্যবহার করবে সামরিক জান্তা। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাজনৈতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে থাইল্যান্ডের বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জান্তার এই সিআই প্রদান কেন্দ্রগুলোকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। থাই সরকারের প্রতি তারা এ কার্যক্রম অবিলম্বে বাতিল বা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

মিয়ানমার মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স রিপ্রেজেন্টেটিভ কোঅর্ডিনেটিং কমিটি ইন থাইল্যান্ডের (এমএমডব্লিউআরসিসিটি) উদ্যোগে পরিচালিত সপ্তাহব্যাপী অনলাইন ভোটে জান্তাবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক শ্রমিক সিআই নথি ছাড়াই থাইল্যান্ডে কাজ ও বসবাসের অনুমতি চেয়ে থাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংস্থাটির প্রতিনিধি খিন সোয়ে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’কে জানান, গণভোটের ফল প্রমাণ করে যে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ এনইউজি-পরিচালিত বিকল্প পরিচয়পত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জান্তার এই সিআই প্রক্রিয়াটি মূলত বৈদেশিক মুদ্রা হাতিয়ে নেওয়া এবং তরুণদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার কৌশল। শ্রমিকেরা এই ফাঁদ বুঝতে পেরেছেন বলেই আবেদন থেকে বিরত থাকছেন।’

এমএমডব্লিউআরসিসিটি তাদের ফেসবুক পাতায় জানায়, অনলাইন গণভোটে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ১৪১ জন অভিবাসী শ্রমিক এনইউজির বিকল্প পরিচয়পত্রের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে জান্তার সিআই কার্ডের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ৮৯৪টি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

গণহত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘিরে আশার সঞ্চার: মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রত্যাশা

07 November 2026

মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় তরুণ তুর্কি নিকো পাজ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

থাইল্যান্ডে মিয়ানমার জান্তার পরিচয়পত্র প্রত্যাখ্যান করলেন ২১ লাখের বেশি কর্মী

হালনাগাদ সময় : ০২:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

থাইল্যান্ডে কর্মরত মিয়ানমারের ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিক জান্তা সরকারের চালু করা নতুন ‘সার্টিফিকেট অব আইডেন্টিটি’ (সিআই) গ্রহণ না করে তা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরিবর্তে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) বিকল্প পরিচয়পত্র পাওয়ার দাবিতে তাঁরা অনলাইনে আয়োজিত এক গণভোটে অংশ নেন।

এই ভোটের মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকেরা থাই কর্তৃপক্ষকে বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তাঁরা জান্তা সরকারকে নয়, বরং এনইউজিকেই মিয়ানমারের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে বিবেচনা করেন।

বর্তমানে থাইল্যান্ডে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক কাজ করছেন। অভিবাসী সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এবার অন্তত ছয় লাখ শ্রমিকের জন্য জান্তার সিআই কার্ডের আবেদন করা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে সামরিক জান্তার অতিরিক্ত কর ও রেমিট্যান্স সংক্রান্ত নিপীড়নমূলক নিয়মের প্রতিবাদে অধিকাংশ শ্রমিক কেন্দ্রগুলো এড়িয়ে চলছেন। সমালোচকদের মতে, সিআই প্রক্রিয়ার নামে জান্তা সরকার মূলত চাঁদাবাজি করছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিআই কার্ড পেতে হলে শ্রমিকদের উপার্জিত আয়ের ২৫ শতাংশ জান্তা অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে হবে এবং ২ শতাংশ আয়কর প্রদান করতে হবে। শ্রমিকদের আশঙ্কা, এই অর্থ মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় ব্যবহার করবে সামরিক জান্তা। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাজনৈতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে থাইল্যান্ডের বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জান্তার এই সিআই প্রদান কেন্দ্রগুলোকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। থাই সরকারের প্রতি তারা এ কার্যক্রম অবিলম্বে বাতিল বা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

মিয়ানমার মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স রিপ্রেজেন্টেটিভ কোঅর্ডিনেটিং কমিটি ইন থাইল্যান্ডের (এমএমডব্লিউআরসিসিটি) উদ্যোগে পরিচালিত সপ্তাহব্যাপী অনলাইন ভোটে জান্তাবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক শ্রমিক সিআই নথি ছাড়াই থাইল্যান্ডে কাজ ও বসবাসের অনুমতি চেয়ে থাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংস্থাটির প্রতিনিধি খিন সোয়ে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’কে জানান, গণভোটের ফল প্রমাণ করে যে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ এনইউজি-পরিচালিত বিকল্প পরিচয়পত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জান্তার এই সিআই প্রক্রিয়াটি মূলত বৈদেশিক মুদ্রা হাতিয়ে নেওয়া এবং তরুণদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার কৌশল। শ্রমিকেরা এই ফাঁদ বুঝতে পেরেছেন বলেই আবেদন থেকে বিরত থাকছেন।’

এমএমডব্লিউআরসিসিটি তাদের ফেসবুক পাতায় জানায়, অনলাইন গণভোটে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ১৪১ জন অভিবাসী শ্রমিক এনইউজির বিকল্প পরিচয়পত্রের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে জান্তার সিআই কার্ডের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ৮৯৪টি।

Share this news as a Photo Card