মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:০৩ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

‘চীন-তাইওয়ান পুনর্মিলন সম্ভব নয়’

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনর্মিলন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের এক দাবির জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

তাইওয়ান পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চো বলেন, রিপাবলিক অব চায়না অর্থাৎ তাইওয়ান—একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। আমাদের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে ফিরে যাওয়া কোনও বিকল্প সমাধান নয়।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক ফোনকলে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে নতুন বিশ্বব্যবস্থায় বেইজিংয়ের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তাইওয়ান তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার চীনের এই বক্তব্যের দৃঢ় বিরোধিতা করতেই ওই মন্তব্য করেন চো।

তাইওয়ানের শাসনব্যবস্থায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর, আর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি মূলত প্রেসিডেন্ট সামলে থাকেন।
চীন তাইওয়ানের জন্য “এক দেশ, দুই ব্যবস্থা” পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছে, যা তাইওয়ানের মূলধারার কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থন পায়নি এবং প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেও সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চলতি মাসে ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ বক্তব্যের পর বেইজিং-টোকিও সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

চীন বলছে, তাইওয়ান তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক ইস্যু।

শি’র সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। তবে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে কোনও আলোচনা উল্লেখ করেননি তিনি।

তাইওয়ান বহুবার অভিযোগ করেছে, চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধের শেষে চীনে গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। যুদ্ধের পরাজিত কুওমিনতাং তখন তাইওয়ান দ্বীপে রিপাবলিক অব চায়না প্রতিষ্ঠা করে তাকে আসল চীন বলে ঘোষণা করে। বর্তমান পিপলস রিপাবলিক অব চায়না তখনও। পরে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন নিজেদের স্বীকৃতি আদায় করে নিলে তাইওয়ানের স্বীকৃতি বাতিল করে অধিকাংশ দেশ, যদিও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শিয়াও কুয়াং-ওয়েই বলেন, চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তথ্য-বিবরণী বিকৃত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, বেইজিং ওই সময়কার নথি ব্যবহার করে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

তার অভিযোগ, চীন তাদের কর্তৃত্ববাদী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি দিয়ে বারবার তাইওয়ান ও জাপানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে।

বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ১৯৪৯ সালে বেইজিং সরকার চীনের বৈধ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়। চীনের সার্বভৌমত্ব ও অন্তর্নিহিত ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেলেন কঙ্গনা, প্রভাস ও রজনীকান্ত

28 October 2026

দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

‘চীন-তাইওয়ান পুনর্মিলন সম্ভব নয়’

হালনাগাদ সময় : ০৫:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনর্মিলন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের এক দাবির জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

তাইওয়ান পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চো বলেন, রিপাবলিক অব চায়না অর্থাৎ তাইওয়ান—একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। আমাদের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে ফিরে যাওয়া কোনও বিকল্প সমাধান নয়।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক ফোনকলে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে নতুন বিশ্বব্যবস্থায় বেইজিংয়ের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তাইওয়ান তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার চীনের এই বক্তব্যের দৃঢ় বিরোধিতা করতেই ওই মন্তব্য করেন চো।

তাইওয়ানের শাসনব্যবস্থায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর, আর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি মূলত প্রেসিডেন্ট সামলে থাকেন।
চীন তাইওয়ানের জন্য “এক দেশ, দুই ব্যবস্থা” পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছে, যা তাইওয়ানের মূলধারার কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থন পায়নি এবং প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেও সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চলতি মাসে ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ বক্তব্যের পর বেইজিং-টোকিও সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

চীন বলছে, তাইওয়ান তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক ইস্যু।

শি’র সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। তবে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে কোনও আলোচনা উল্লেখ করেননি তিনি।

তাইওয়ান বহুবার অভিযোগ করেছে, চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধের শেষে চীনে গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। যুদ্ধের পরাজিত কুওমিনতাং তখন তাইওয়ান দ্বীপে রিপাবলিক অব চায়না প্রতিষ্ঠা করে তাকে আসল চীন বলে ঘোষণা করে। বর্তমান পিপলস রিপাবলিক অব চায়না তখনও। পরে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন নিজেদের স্বীকৃতি আদায় করে নিলে তাইওয়ানের স্বীকৃতি বাতিল করে অধিকাংশ দেশ, যদিও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শিয়াও কুয়াং-ওয়েই বলেন, চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তথ্য-বিবরণী বিকৃত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, বেইজিং ওই সময়কার নথি ব্যবহার করে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

তার অভিযোগ, চীন তাদের কর্তৃত্ববাদী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি দিয়ে বারবার তাইওয়ান ও জাপানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে।

বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ১৯৪৯ সালে বেইজিং সরকার চীনের বৈধ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়। চীনের সার্বভৌমত্ব ও অন্তর্নিহিত ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card