মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:০৯ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ‘মৌলিক ভুল’ ছিল: গুতেরেস

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পদ্ধতিতে “মৌলিক ত্রুটি” ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার “জোরালো কারণ” রয়েছে।

নিউ ইয়র্কে রয়টার্স নেক্সট সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ইসরায়েলি অভিযান যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গাজা ধ্বংসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে—এতে মৌলিক কিছু ভুল ছিল।

তিনি বলেন, তাদের নাকি লক্ষ্য ছিল হামাসকে ধ্বংস করা। অথচ গাজা ধ্বংস হলেও, হামাস এখনও নিশ্চিহ্ন হয়নি। সুতরাং এই অভিযানের প্রকৃতিতে মৌলিক সমস্যা রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায়, যেখানে এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়েছিলেন।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে গুতেরেস বলেন, সে সম্ভাবনা আছে বলে বিশ্বাস করার শক্তিশালী কারণ রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, একমাত্র অপরাধ হলো— ৭ অক্টোবরের নৃশংস হামলার দুই বছরের বেশি সময় পরও জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েল সফর করেননি, বরং তিনি তার পদ ব্যবহার করে প্রতিটি সুযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ ও নিন্দা করেছেন।

তবে গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী) ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, তিনি গুতেরেসের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন।

১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে ও হামাসের মধ্যে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে ইসরায়েল এখনও গাজায় হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাসের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন গুতেরেস। আগস্টে বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। আশা করি এটি বজায় থাকবে এবং আরও উন্নত হবে।

গাজায় সহায়তা সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে বাধার অভিযোগ করে আসছে জাতিসংঘ—যার দায় তারা ইসরায়েলের ওপর চাপায়। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন ত্রাণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে ইসরায়েল বলেছে, হামাস ত্রাণ লুট করে—যা গোষ্ঠীটি অস্বীকার করে আসছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ‘মৌলিক ভুল’ ছিল: গুতেরেস

হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পদ্ধতিতে “মৌলিক ত্রুটি” ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার “জোরালো কারণ” রয়েছে।

নিউ ইয়র্কে রয়টার্স নেক্সট সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ইসরায়েলি অভিযান যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গাজা ধ্বংসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে—এতে মৌলিক কিছু ভুল ছিল।

তিনি বলেন, তাদের নাকি লক্ষ্য ছিল হামাসকে ধ্বংস করা। অথচ গাজা ধ্বংস হলেও, হামাস এখনও নিশ্চিহ্ন হয়নি। সুতরাং এই অভিযানের প্রকৃতিতে মৌলিক সমস্যা রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায়, যেখানে এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়েছিলেন।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে গুতেরেস বলেন, সে সম্ভাবনা আছে বলে বিশ্বাস করার শক্তিশালী কারণ রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, একমাত্র অপরাধ হলো— ৭ অক্টোবরের নৃশংস হামলার দুই বছরের বেশি সময় পরও জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েল সফর করেননি, বরং তিনি তার পদ ব্যবহার করে প্রতিটি সুযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ ও নিন্দা করেছেন।

তবে গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী) ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, তিনি গুতেরেসের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন।

১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে ও হামাসের মধ্যে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে ইসরায়েল এখনও গাজায় হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাসের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন গুতেরেস। আগস্টে বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। আশা করি এটি বজায় থাকবে এবং আরও উন্নত হবে।

গাজায় সহায়তা সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে বাধার অভিযোগ করে আসছে জাতিসংঘ—যার দায় তারা ইসরায়েলের ওপর চাপায়। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন ত্রাণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে ইসরায়েল বলেছে, হামাস ত্রাণ লুট করে—যা গোষ্ঠীটি অস্বীকার করে আসছে।

Share this news as a Photo Card