মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:০৫ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আর্থিক সংকটে থাকা ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্ধ হচ্ছে না এখনই

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিলেও, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এখনই অবসায়ন করা হচ্ছে না। বরং, আর্থিক সূচকের উন্নতির জন্য এদের তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলোকে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—ফাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসংগত কারণ আছে কিনা, তা জানতে গত সপ্তাহে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুনানি শুরু হয় এবং গত রোববার তা শেষ হয়। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে। এর ভিত্তিতে, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক সূচকের উন্নতির জন্য তিন থেকে ছয় মাসের সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদাহরণস্বরূপ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে চারটি এনবিএফআই—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা এই নয়টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে, অর্থাৎ রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক নির্ধারণ করা হবে। এই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে, আমানতকারীরা কেবল তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো প্রকার সুদ প্রদান করা হবে না।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের রক্ত বনাম ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদ: ভারত-বাংলাদেশ জেন-জি আন্দোলনের নির্মম ব্যবধান

29 October 2026

'আমার ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে'- ফেসবুকে তাহসিফের বোনের আকুতি

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আর্থিক সংকটে থাকা ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্ধ হচ্ছে না এখনই

হালনাগাদ সময় : ০৭:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিলেও, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এখনই অবসায়ন করা হচ্ছে না। বরং, আর্থিক সূচকের উন্নতির জন্য এদের তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলোকে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—ফাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসংগত কারণ আছে কিনা, তা জানতে গত সপ্তাহে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুনানি শুরু হয় এবং গত রোববার তা শেষ হয়। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে। এর ভিত্তিতে, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক সূচকের উন্নতির জন্য তিন থেকে ছয় মাসের সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদাহরণস্বরূপ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে চারটি এনবিএফআই—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা এই নয়টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে, অর্থাৎ রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক নির্ধারণ করা হবে। এই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে, আমানতকারীরা কেবল তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো প্রকার সুদ প্রদান করা হবে না।

Share this news as a Photo Card