ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঝটিকা মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ এবং দলটির ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের ৪৬ জন নেতাকর্মীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এই ঝটিকা মিছিলগুলো থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এদিন বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন নানা সময়ে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল আয়োজন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে, ঢাকা মহানগরীতে আজ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ৪৬ জন নেতাকর্মীকে ডিএমপি গ্রেপ্তার করেছে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সর্বোচ্চ ১৮ জনকে, সিটিটিসি ১৩ জনকে, খিলক্ষেত থানা পুলিশ ৪ জন, উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ২ জন, বাড্ডা থানা ৩ জন, বনানী থানা ৩ জন এবং তেজগাঁও থানা ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তালেবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের ‘সক্রিয় সদস্য’ এবং তাদের ‘বেশির ভাগই’ ঢাকার বাইরে থেকে মিছিল করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এদের মধ্যে ত্রিশাল, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বগুড়া, বরগুনা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য রয়েছেন।

শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ৯০ থেকে ১০০ জন মিছিলের জন্য জড়ো হলে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মিছিলের নামে এই ‘অপতৎপরতা’ বন্ধ করতে ডিএমপি সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তারা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের উদ্দেশ্য শুধু মিছিল করা নাকি অন্যকিছু—এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, “আজ আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি এবং এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে এই ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করছে। এর পেছনে আবার অনেকে অর্থায়ন করছেন। প্রত্যেকটি মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট টাকা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, তারা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া এবং ঢাকা মহানগরীতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির ‘অপচেষ্টা’ করছে। তারা যেটা করে, মিছিলের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের তৎপরতা জানান দেয়।

ঢাকায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, “এটা আসলে গণগ্রেপ্তার বলা যাবে না। আমরা যেটা করছি, তাৎক্ষণিক ঝটিকা মিছিলে যাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা গ্রেপ্তারের পর যাচাই-বাছাই করে তাদের পূর্বাপর ইতিহাস যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলেই মামলায় চালান দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এর আগে আপনারা দেখেছেন, আমরা এক দিনে ২৪৪ জন; আরেক দিন ১৩১ জনকে ঝটিকা মিছিল থেকে গ্রেপ্তার করেছি। যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসছে, আমরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। এ কারণেই গ্রেপ্তারগুলো হচ্ছে।”

মিছিলে অংশগ্রহণের বিনিময়ে কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একজন লোক ঢাকার বাইরে থেকে আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার অর্থ না পেলে তো আসবেন না। ‘মোটিভেট’ করার জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি মাথায় রাখছি। যারা এই প্রণোদনা দিচ্ছেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।”

ঝটিকা মিছিল থেকে এ বছর ‘৩ হাজারের মতো’ গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “অবশ্যই ঝটিকা মিছিলে যারা জড়িত আছেন, সেই মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগে এবং মিছিলের ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”

অন্য একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক তৎপরতা একটু বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সতর্ক রয়েছি এবং আমাদের নজরদারিও রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার সক্ষমতা ডিএমপির রয়েছে।”

শুক্রবার গ্রেপ্তার যারা

ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—আওয়ামী লীগের আনিসুজ্জামান রনি, মুন্না মিয়া, জাকির হোসেন খান, কামরুজ্জামান; ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হাসান সোহান; কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাঁধন; সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন; কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম। আরও রয়েছেন ছাত্রলীগের সদস্য রকিবুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত শুভ, তাসরিফ হোসেন, খালেদ বিন কাওসার; কর্মী সাইফুল ইসলাম সাইফ; আওয়ামী লীগের কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান জনি, শেখ রাশেদুজ্জামান, জাহিদুল ইসলাম সুনু, রবিউল আওয়াল, আলমগীর হোসেন জনি, বিশ্বজিৎ সাহা, মাহাফুজুর রহমান, আ. শুকুর, আবিদুর রহমান, মো. সাব্বির, ইমন হোসেন, ফাতিনুর শিমুল, আরিফুল ইসলাম, শ্রীকান্ত কর্মকার, জিয়াদ মাহমুদ, মো. জিয়াদ, মো. আসলাম, রিফাত ইসলাম, মিল্লাত বাবু ও স্বপন মিয়া। এছাড়া তালিকায় আছেন যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ মামুন শেখ পরশ; স্বেচ্ছাসেবক লীগের মামুন সেখ ও মোহাম্মদ রাজু; যুবলীগের শফিউল আলম, মোহাম্মদ কুদ্দুস সরদার; ছাত্রলীগের কর্মী মিঠুন দেবনাথ; বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমান বাধন; নোয়াখালী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম সিদ্দিক; বরগুনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ দোলন; জয় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠু দেবনাথ; সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সদস্য আশরাফ আল কবির চৌধুরী; এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য দেব যুথি দে নব; বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন ফরহাদ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

ঝটিকা মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ এবং দলটির ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের ৪৬ জন নেতাকর্মীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এই ঝটিকা মিছিলগুলো থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এদিন বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন নানা সময়ে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল আয়োজন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে, ঢাকা মহানগরীতে আজ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ৪৬ জন নেতাকর্মীকে ডিএমপি গ্রেপ্তার করেছে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সর্বোচ্চ ১৮ জনকে, সিটিটিসি ১৩ জনকে, খিলক্ষেত থানা পুলিশ ৪ জন, উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ২ জন, বাড্ডা থানা ৩ জন, বনানী থানা ৩ জন এবং তেজগাঁও থানা ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তালেবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের ‘সক্রিয় সদস্য’ এবং তাদের ‘বেশির ভাগই’ ঢাকার বাইরে থেকে মিছিল করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এদের মধ্যে ত্রিশাল, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বগুড়া, বরগুনা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য রয়েছেন।

শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ৯০ থেকে ১০০ জন মিছিলের জন্য জড়ো হলে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মিছিলের নামে এই ‘অপতৎপরতা’ বন্ধ করতে ডিএমপি সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তারা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের উদ্দেশ্য শুধু মিছিল করা নাকি অন্যকিছু—এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, “আজ আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি এবং এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে এই ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করছে। এর পেছনে আবার অনেকে অর্থায়ন করছেন। প্রত্যেকটি মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট টাকা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, তারা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া এবং ঢাকা মহানগরীতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির ‘অপচেষ্টা’ করছে। তারা যেটা করে, মিছিলের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের তৎপরতা জানান দেয়।

ঢাকায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, “এটা আসলে গণগ্রেপ্তার বলা যাবে না। আমরা যেটা করছি, তাৎক্ষণিক ঝটিকা মিছিলে যাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা গ্রেপ্তারের পর যাচাই-বাছাই করে তাদের পূর্বাপর ইতিহাস যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলেই মামলায় চালান দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এর আগে আপনারা দেখেছেন, আমরা এক দিনে ২৪৪ জন; আরেক দিন ১৩১ জনকে ঝটিকা মিছিল থেকে গ্রেপ্তার করেছি। যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসছে, আমরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। এ কারণেই গ্রেপ্তারগুলো হচ্ছে।”

মিছিলে অংশগ্রহণের বিনিময়ে কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একজন লোক ঢাকার বাইরে থেকে আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার অর্থ না পেলে তো আসবেন না। ‘মোটিভেট’ করার জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি মাথায় রাখছি। যারা এই প্রণোদনা দিচ্ছেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।”

ঝটিকা মিছিল থেকে এ বছর ‘৩ হাজারের মতো’ গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “অবশ্যই ঝটিকা মিছিলে যারা জড়িত আছেন, সেই মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগে এবং মিছিলের ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”

অন্য একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক তৎপরতা একটু বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সতর্ক রয়েছি এবং আমাদের নজরদারিও রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার সক্ষমতা ডিএমপির রয়েছে।”

শুক্রবার গ্রেপ্তার যারা

ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—আওয়ামী লীগের আনিসুজ্জামান রনি, মুন্না মিয়া, জাকির হোসেন খান, কামরুজ্জামান; ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হাসান সোহান; কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাঁধন; সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন; কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম। আরও রয়েছেন ছাত্রলীগের সদস্য রকিবুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত শুভ, তাসরিফ হোসেন, খালেদ বিন কাওসার; কর্মী সাইফুল ইসলাম সাইফ; আওয়ামী লীগের কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান জনি, শেখ রাশেদুজ্জামান, জাহিদুল ইসলাম সুনু, রবিউল আওয়াল, আলমগীর হোসেন জনি, বিশ্বজিৎ সাহা, মাহাফুজুর রহমান, আ. শুকুর, আবিদুর রহমান, মো. সাব্বির, ইমন হোসেন, ফাতিনুর শিমুল, আরিফুল ইসলাম, শ্রীকান্ত কর্মকার, জিয়াদ মাহমুদ, মো. জিয়াদ, মো. আসলাম, রিফাত ইসলাম, মিল্লাত বাবু ও স্বপন মিয়া। এছাড়া তালিকায় আছেন যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ মামুন শেখ পরশ; স্বেচ্ছাসেবক লীগের মামুন সেখ ও মোহাম্মদ রাজু; যুবলীগের শফিউল আলম, মোহাম্মদ কুদ্দুস সরদার; ছাত্রলীগের কর্মী মিঠুন দেবনাথ; বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমান বাধন; নোয়াখালী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম সিদ্দিক; বরগুনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ দোলন; জয় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠু দেবনাথ; সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সদস্য আশরাফ আল কবির চৌধুরী; এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য দেব যুথি দে নব; বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন ফরহাদ।