ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে’ থাকতে চায় বাংলাদেশ

গাজা উপত্যকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (ISF)-এ যোগদানের আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাংলাদেশের নতুন কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠন ও নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে যে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করেছেন, বাংলাদেশ তার অংশ হতে চায়। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অভিহিত করে বাংলাদেশের সাথে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।

বৈঠকে গাজা ইস্যু ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য বি১ ভিসা সহজ করা এবং বিতর্কিত ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন খলিলুর রহমান। উল্লেখ্য, আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটন ভিসার অপব্যবহার কমলে এই নিয়ম পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা ও এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং শুল্ক হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেই গাজা মিশনে যোগ দেওয়ার এই আগাম প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, এই বাহিনী যদি জাতিসংঘের আওতায় গঠিত হয় তবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্য সুবিধার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একযোগে কাজ করা বাংলাদেশের জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি, এবং গাজা মিশনে যোগদান সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে’ থাকতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০১:০৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
গাজা উপত্যকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (ISF)-এ যোগদানের আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাংলাদেশের নতুন কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠন ও নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে যে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করেছেন, বাংলাদেশ তার অংশ হতে চায়। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অভিহিত করে বাংলাদেশের সাথে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।

বৈঠকে গাজা ইস্যু ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য বি১ ভিসা সহজ করা এবং বিতর্কিত ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন খলিলুর রহমান। উল্লেখ্য, আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটন ভিসার অপব্যবহার কমলে এই নিয়ম পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা ও এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং শুল্ক হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেই গাজা মিশনে যোগ দেওয়ার এই আগাম প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, এই বাহিনী যদি জাতিসংঘের আওতায় গঠিত হয় তবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্য সুবিধার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একযোগে কাজ করা বাংলাদেশের জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি, এবং গাজা মিশনে যোগদান সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে।