উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের স্বপ্নের ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটির জন্য চীনের কাছে ঋণ চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দেশটির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে চীনের সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হচ্ছে না।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ভারত নাকি চীন—কাকে দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের দোটানা কাটিয়ে বর্তমান সরকার চীনকে বেছে নিলেও অর্থায়নের বিষয়ে বেইজিংয়ের ‘ধীরে চলো’ নীতি প্রকল্পের গতিকে মন্থর করে দিয়েছে।
যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে চীন সরকারের কাছে ৫৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা) ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। কিন্তু ঋণ চুক্তির বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো খসড়া বা চূড়ান্ত আপডেট ঢাকা পৌঁছায়নি। ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ঋণের বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতির খবর তার জানা নেই। এমনকি পরিকল্পনা কমিশনও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব (ডিপিপি) হাতে পায়নি।
তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যাওয়ার কথা। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, নদীর গভীরতা ১০ মিটার বাড়ানো, ১০৮ কিলোমিটার নদী খনন এবং নদীর দুই তীরে ১৭৩ কিলোমিটার তীর রক্ষার কাজ করা হবে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বর্ষায় বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে বিশাল জনপদ। এছাড়া নদীর দুই পাড়ে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ এবং উদ্ধারকৃত জমিতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন যেকোনো প্রকল্পে অর্থায়নের আগে এর উপযোগিতা এবং রিটার্ন পাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, যা সময়সাপেক্ষ। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সূচনা এখন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতেই বর্তাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই প্রাণের দাবি পূরণ এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রইল।
রিপোর্টারের নাম 





















