ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সরকারের সর্বাত্মক প্রচারণা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে সর্বাত্মক প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে এই প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সনদে জনগণের আনুষ্ঠানিক সায় পেতেই সরকার এমন ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যে, আগামীতে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে কি না। যদি অধিকাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক মতামত প্রদান করেন, তবে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান পুনর্গঠন করবেন। পরবর্তী ধাপে ভোটের সংখ্যানুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করার পরিকল্পনাও এই জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, এই সনদে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৬টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় সরকারের পক্ষ থেকেই বেশি প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই প্রচার কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। প্রচারণার অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ইউটিউব এবং টিকটকে অডিও-ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আইসিটি বিভাগ থেকে গণভোটের জন্য বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরির পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি জুমার খুতবা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনকেও এই প্রচারণার আওতায় আনা হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ৩০টি ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে প্রচার হচ্ছে। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা সফল করতে জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত করা অপরিহার্য। নির্বাচনের প্রচারণার নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত গণভোটের এই প্রচারণা কার্যক্রম দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সরকারের সর্বাত্মক প্রচারণা

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে সর্বাত্মক প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে এই প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সনদে জনগণের আনুষ্ঠানিক সায় পেতেই সরকার এমন ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যে, আগামীতে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে কি না। যদি অধিকাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক মতামত প্রদান করেন, তবে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান পুনর্গঠন করবেন। পরবর্তী ধাপে ভোটের সংখ্যানুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করার পরিকল্পনাও এই জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, এই সনদে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৬টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় সরকারের পক্ষ থেকেই বেশি প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই প্রচার কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। প্রচারণার অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ইউটিউব এবং টিকটকে অডিও-ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আইসিটি বিভাগ থেকে গণভোটের জন্য বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরির পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি জুমার খুতবা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনকেও এই প্রচারণার আওতায় আনা হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ৩০টি ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে প্রচার হচ্ছে। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা সফল করতে জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত করা অপরিহার্য। নির্বাচনের প্রচারণার নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত গণভোটের এই প্রচারণা কার্যক্রম দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে।