ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে গণহত্যার শঙ্কা, বিশ্বকে সতর্ক করলেন নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি

ইরানে চলমান অস্থিরতা ও ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগে সরকার বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইরানি মানবাধিকার আইনজীবী শিরিন এবাদি। পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রতি তিনি দ্রুত ও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে শিরিন এবাদি বলেছেন, “আমি আজ রাতে জরুরি অবস্থার কথা জানাতে বাধ্য হচ্ছি। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আড়ালে একটি গণহত্যা পরিচালনার চেষ্টা করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু তাদের প্রতিবাদকে গুলি দিয়ে দমন করা হচ্ছে। তার মতে, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পশ্চিমা সরকারগুলোকে অবিলম্বে ইরানের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালানো বন্ধ হয়, হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়।

একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। এই ব্যাপক সহিংসতার মধ্যেই কর্তৃপক্ষ প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি এক ভাষণে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান বিক্ষোভ দমনে সরকার কোনো ছাড় দেবে না, বরং কঠোর শক্তি প্রয়োগের পথেই হাঁটবে। তার এই বক্তব্য চলমান দমন-পীড়ন আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে একাধিকবার প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও এই হুঁশিয়ারি বাস্তবে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তে রূপ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলীর পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ার দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর-৬ আসনে একই গ্রাম থেকে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে

ইরানে ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে গণহত্যার শঙ্কা, বিশ্বকে সতর্ক করলেন নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান অস্থিরতা ও ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগে সরকার বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইরানি মানবাধিকার আইনজীবী শিরিন এবাদি। পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রতি তিনি দ্রুত ও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে শিরিন এবাদি বলেছেন, “আমি আজ রাতে জরুরি অবস্থার কথা জানাতে বাধ্য হচ্ছি। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আড়ালে একটি গণহত্যা পরিচালনার চেষ্টা করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু তাদের প্রতিবাদকে গুলি দিয়ে দমন করা হচ্ছে। তার মতে, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পশ্চিমা সরকারগুলোকে অবিলম্বে ইরানের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালানো বন্ধ হয়, হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়।

একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। এই ব্যাপক সহিংসতার মধ্যেই কর্তৃপক্ষ প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি এক ভাষণে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান বিক্ষোভ দমনে সরকার কোনো ছাড় দেবে না, বরং কঠোর শক্তি প্রয়োগের পথেই হাঁটবে। তার এই বক্তব্য চলমান দমন-পীড়ন আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে একাধিকবার প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও এই হুঁশিয়ারি বাস্তবে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তে রূপ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলীর পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ার দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে।