ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ একটি রাজনৈতিক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেও তিনি বলেন, এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশে এক ধরণের বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা একটি একপক্ষীয় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
গতকাল শুক্রবার খুলনার জামিয়া রশিদিয়া গোয়ালখালী মাদরাসা অডিটোরিয়ামে দলীয় এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের সময় যত কাছে আসছে, একটি দুষ্টচক্র সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই খুনি চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে আরও অভিযোগ করেন যে, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং দলীয় অস্ত্রধারীরা এখনো সক্রিয় থেকে জুলাই বিপ্লবের অর্জনগুলোকে নসাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিশেষ করে জুলাই যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, বৈষম্যহীন সমাজ ও নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার পথে এই অপশক্তিগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দেশে লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তৎপরতা না থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী মাঠের সমতা বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বর্তমানে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে না। নির্দিষ্ট কিছু নেতাকে বিশেষ গুরুত্ব ও ভিআইপি প্রোটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর জনমত জরিপের মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্বকে একটি বিশেষ দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। খুলনা মহানগর সভাপতি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন।
রিপোর্টারের নাম 























