** ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে একযোগে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির বাহিনীর জন্য চার বছর মেয়াদি একটি বিশেষ কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। মূলত এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এই প্রস্তুতির বিশেষ দিকের মধ্যে রয়েছে—মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালানো এবং শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভ বিরাজ করছে। তেহরান এই অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ নিয়ে ইসরায়েল সরকার সরাসরি কোনো দাপ্তরিক মন্তব্য করেনি। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং এই আন্দোলন সংগঠনে নিজেদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে ইসলামি সরকারের পতন ও রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে দেশটির প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সেখানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটিতে ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এদিকে ইরান ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকার কঠোর দমন-পীড়ন চালালে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























