ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

** নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছেন রুমিন ফারহানা, ৫ বছরে আয় বেড়েছে ২২ গুণ **

** আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি তার সম্পদ ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য রুমিন ফারহানা তার প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে তার কাছে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ২০ লাখ টাকা খরচ করার পরিকল্পনা করেছেন।

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর বার্ষিক আয়ে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হওয়ার সময় জমা দেওয়া হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ গত ৫ বছরে তার আয় বেড়েছে ২২ গুণেরও বেশি। এছাড়া হলফনামায় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে চট্টগ্রামে ৫ কাঠা জমি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিকানার কথা উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিকভাবে বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছেন রুমিন ফারহানা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে দলীয় প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রুমিন ফারহানা ভোটের লড়াইয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানার অংশগ্রহণ এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে বেশ জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি এবং পেশাগত সুনাম ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে, যা এবারের নির্বাচনে বড় কোনো চমক তৈরির সম্ভাবনা রাখছে। ইতিমধ্যে তিনি প্রার্থীর প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর-৬ আসনে একই গ্রাম থেকে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে

** নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছেন রুমিন ফারহানা, ৫ বছরে আয় বেড়েছে ২২ গুণ **

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

** আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি তার সম্পদ ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য রুমিন ফারহানা তার প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে তার কাছে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ২০ লাখ টাকা খরচ করার পরিকল্পনা করেছেন।

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর বার্ষিক আয়ে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হওয়ার সময় জমা দেওয়া হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ গত ৫ বছরে তার আয় বেড়েছে ২২ গুণেরও বেশি। এছাড়া হলফনামায় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে চট্টগ্রামে ৫ কাঠা জমি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিকানার কথা উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিকভাবে বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছেন রুমিন ফারহানা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে দলীয় প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রুমিন ফারহানা ভোটের লড়াইয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানার অংশগ্রহণ এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে বেশ জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি এবং পেশাগত সুনাম ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে, যা এবারের নির্বাচনে বড় কোনো চমক তৈরির সম্ভাবনা রাখছে। ইতিমধ্যে তিনি প্রার্থীর প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।