ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

শীতে বিপর্যস্ত খুলনা উপকূলের জনজীবন, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

খুলনার কয়রায় ভ্যানচালক মাজেদ সরদার বলেন, শীতের তীব্রতার কারণে সকালে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারি না। যাত্রীও কম। অন্য সময় দিনে তিন থেকে চারশ টাকা পর্যন্ত আয় হতো এখন তা ২০০ টায় নেমে এসেছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন ৪ নম্বর কয়রা গ্রামের মুন্ডা নারী আতশী নদীতে জাল টেনে সংসার নির্বাহ করেন। তিনি জানান, সকাল হতে কাকড়া ধরতে নদীর চরে হাঁটু পানিতে, কখনো বুক পানিতে নামতে হয়। কিন্তু শীতে এতো ঠান্ডা পানিতে নামতে পারি না। দুদিন জাল টানলে ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে পড়বো। বিকল্প আয়ের কোনো উপায় নেই।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান কামরুল। তিনি বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো খুব কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঠান্ডা বাতাসে শরীর অবশ হয়ে আসে, চোখে পানি চলে আসে। তবু কাজের তাগিদে রাস্তায় বের হতে হয়েছে। কুয়শায় ঠিকমত দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার ভয় থাকে।

অটোড্রাইভার আশরাফ হোসেন জানান, পেটের দায়ে রাস্তায় নামতে হয়, কিন্তু এখন যাত্রী কম। মানুষ শীতের ভয়ে ঘর থেকে বের হয় না। আগে সারাদিনে যেখানে ৮০০-১০০০ টাকা আয় হতো, এখন ৫০০ টাকা তুলতেই কষ্ট হয়। মহাজনের জমার টাকা উঠানো কঠিন হয়ে পড়ে।

খুলনা জেলা সহকারী আবহাওয়াবিদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজ (সোমবার) সকাল ৬টায় খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ।

প্রতিনিধি/টিবি

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

শীতে বিপর্যস্ত খুলনা উপকূলের জনজীবন, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০১:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

খুলনার কয়রায় ভ্যানচালক মাজেদ সরদার বলেন, শীতের তীব্রতার কারণে সকালে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারি না। যাত্রীও কম। অন্য সময় দিনে তিন থেকে চারশ টাকা পর্যন্ত আয় হতো এখন তা ২০০ টায় নেমে এসেছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন ৪ নম্বর কয়রা গ্রামের মুন্ডা নারী আতশী নদীতে জাল টেনে সংসার নির্বাহ করেন। তিনি জানান, সকাল হতে কাকড়া ধরতে নদীর চরে হাঁটু পানিতে, কখনো বুক পানিতে নামতে হয়। কিন্তু শীতে এতো ঠান্ডা পানিতে নামতে পারি না। দুদিন জাল টানলে ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে পড়বো। বিকল্প আয়ের কোনো উপায় নেই।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান কামরুল। তিনি বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো খুব কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঠান্ডা বাতাসে শরীর অবশ হয়ে আসে, চোখে পানি চলে আসে। তবু কাজের তাগিদে রাস্তায় বের হতে হয়েছে। কুয়শায় ঠিকমত দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার ভয় থাকে।

অটোড্রাইভার আশরাফ হোসেন জানান, পেটের দায়ে রাস্তায় নামতে হয়, কিন্তু এখন যাত্রী কম। মানুষ শীতের ভয়ে ঘর থেকে বের হয় না। আগে সারাদিনে যেখানে ৮০০-১০০০ টাকা আয় হতো, এখন ৫০০ টাকা তুলতেই কষ্ট হয়। মহাজনের জমার টাকা উঠানো কঠিন হয়ে পড়ে।

খুলনা জেলা সহকারী আবহাওয়াবিদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজ (সোমবার) সকাল ৬টায় খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ।

প্রতিনিধি/টিবি