ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

টানা ছয় দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের ফলপ্রসূ আলোচনার পর শুক্রবার ও শনিবার—এই দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই বন্দরে পুরোদমে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংগঠনের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন জানান, জনস্বার্থ এবং আসন্ন রমজান মাসের কথা বিবেচনা করে তারা সাময়িকভাবে এই কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে সরকার যদি আগামী দুদিনের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে আগামী রোববার থেকে আবারও কঠোর আন্দোলনে ফিরবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো এনসিটি পরিচালনার বিতর্কিত চুক্তি বাতিল করা। এছাড়া আন্দোলনরত কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, উপদেষ্টা ইতোমধ্যে তাদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছেন। এছাড়া এনসিটি চুক্তি বাতিলের বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। অন্যদিকে, বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। তাই দেশের স্বার্থ ও পবিত্র রমজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা সরকারকে দুই দিন সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ফের কর্মবিরতিতে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তারা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, কোনোভাবেই এই টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত ছয় দিন ধরে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও পরিবহন ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল। জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। শ্রমিকরা কাজে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুতই বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করলেন সদ্যবিদায়ী গভর্নরের উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম বন্দরে দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টানা ছয় দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের ফলপ্রসূ আলোচনার পর শুক্রবার ও শনিবার—এই দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই বন্দরে পুরোদমে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংগঠনের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন জানান, জনস্বার্থ এবং আসন্ন রমজান মাসের কথা বিবেচনা করে তারা সাময়িকভাবে এই কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে সরকার যদি আগামী দুদিনের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে আগামী রোববার থেকে আবারও কঠোর আন্দোলনে ফিরবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো এনসিটি পরিচালনার বিতর্কিত চুক্তি বাতিল করা। এছাড়া আন্দোলনরত কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, উপদেষ্টা ইতোমধ্যে তাদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছেন। এছাড়া এনসিটি চুক্তি বাতিলের বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। অন্যদিকে, বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। তাই দেশের স্বার্থ ও পবিত্র রমজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা সরকারকে দুই দিন সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ফের কর্মবিরতিতে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তারা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, কোনোভাবেই এই টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত ছয় দিন ধরে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও পরিবহন ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল। জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। শ্রমিকরা কাজে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুতই বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।