দেশের কৃষি খাতে শীতের স্বাভাবিক স্থায়িত্ব কমে আসার কারণে মৌসুমি ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালীন রবিশস্যের ফলন আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সামগ্রিকভাবে কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে শীতের আগমন দেরিতে হওয়ায় এবং এর স্থায়িত্ব কম থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন শীতকালীন ফসলগুলোর উপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ফসলের একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা সহনশীলতা থাকে। আলু, গম, ভুট্টা, সরিষা, টমেটোর মতো শীতকালীন ফসলগুলোর জন্য সাধারণত ১০ থেকে ১২ বা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে প্রায় আড়াই মাস ধারাবাহিক ঠান্ডা আবহাওয়া প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে এবং শীতের স্থায়িত্ব কমে গেলে এসব ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
অতীতে দেশে গমের ব্যাপক চাষ হতো, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সেই চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। ফলশ্রুতিতে গমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যা গম ও আটা-ময়দা জাতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
রাজশাহী ও রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চল শীতকালীন ফসলের উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শীতের ব্যাপ্তি কমে যাওয়ায় এসব এলাকার কৃষিব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। যদিও বিগত বছরগুলোতে গমের চাষ কমে গিয়েছিল, তবে সম্প্রতি আটার দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের মধ্যে পুনরায় গম চাষে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 


















