আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ—সবখানেই এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে গৃহস্থালির ড্রয়িংরুম পর্যন্ত আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু এখন ভোট। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা দিনরাত এক করে ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা ও অভিযোগগুলো সরাসরি শুনছেন। বিজয়ী হলে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের বলিষ্ঠ অঙ্গীকার করছেন তারা। প্রার্থীর পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকরাও ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও তৎপরতা সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়ছে।
নির্বাচনী মাঠে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সরব রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা স্ব-স্ব প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজধানীর রাজপথে এখন ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ফুটবল ও হাঁস প্রতীকের সমর্থনে মিছিল-স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এমন জমজমাট প্রচারণার চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে, প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি একদল তরুণের মুখোমুখি হয়ে তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আগামীর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন ও রূপরেখা তুলে ধরেন। তারুণ্যের এই মতবিনিময় সভায় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা ও সমসাময়িক ভাবনা নিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন ততই উত্তপ্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
রিপোর্টারের নাম 


















