বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সম্প্রতি ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাসে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বনানী ক্যাম্পাসের হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ডিজিটাল ইনোভেশন-এর ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী শামসুল আলম লিটন এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিজা পারভিন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্মৃতিচারণ করেন ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির ডেপুটি ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এনামুল করিম।
শোকসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল হক জুবায়ের। এরপর মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। তাঁর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী আশফিয়া মাশিয়াত ইসলাম।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সংকটকালে শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বেগম জিয়া সর্বদা অবিচল ছিলেন, যা তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি অর্জনে সহায়তা করেছে। ড. মাহবুব উল্লাহ উল্লেখ করেন যে, ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন – এসবই তিনি জাতীয় স্বার্থে গ্রহণ করেছিলেন। বেগম জিয়া সবসময় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু থাকতে পারে, কিন্তু কোনো প্রভু নয়। দেশই ছিল তাঁর শেষ ঠিকানা এবং আমৃত্যু তিনি এই আদর্শে অটল ছিলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বেগম জিয়ার নীতি, আদর্শ ও দৃঢ়তা শিক্ষার্থীদের মাঝে সঞ্চারিত করার জন্য তিনি শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
বিশেষ অতিথি শামসুল আলম লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন একজন আদর্শিক নেতৃত্বের সকল গুণাবলী ধারণ করেছেন। চরম নির্যাতন, ব্যক্তিগত কষ্ট, কারাবরণ এবং সন্তান হারানোর বেদনা—কোন কিছুই তাঁকে জাতীয় স্বার্থ থেকে একবিন্দুও বিচ্যুত করতে পারেনি।
বিশেষ অতিথি আনিজা পারভিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারী উন্নয়ন ও শিক্ষায় যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এসব উদ্যোগের ফলে নারীরা আজ শিক্ষা, গবেষণা ও নেতৃত্বে নিজেদের যোগ্য স্থান করে নিতে সক্ষম হচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 


















