জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সকল প্রকার দুর্নীতিকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা হবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াত কাজ করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ পেলে দেশ পরিচালনায় সর্বস্তরের দুর্নীতি নির্মূল করা হবে। “জনগণের একটি পয়সাও আমরা আত্মসাৎ করব না” – এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো স্থান এ দেশে থাকবে না। চাঁদা, দুর্নীতি বা মামলা-হামলার সঙ্গে জামায়াত জড়িত নয় এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। এই সব অপকর্মের বিরুদ্ধে দল জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গঠনের দায়িত্ব সরকারের।
শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় শহরের আলতাফুননেছা খেলার মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এবং সাতমাথা সমগ্র উত্তরবঙ্গকে সংযুক্ত করেছে। যদি জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে ঐতিহ্যবাহী বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের বিজয়ের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক এবং এই প্রতীকে ভোটারদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এরপর তিনি বগুড়ার সাতটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীরা হলেন: বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে নূর মোহাম্মদ, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মো. মোস্তফা ফয়সাল, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মো. আবিদুর রহমান এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানী। প্রার্থীদের হাতে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জমকালো এই জনসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সকাল ১০টার পর থেকেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য শুরু করেন। প্রধান অতিথির ১২ মিনিটের বক্তব্যের পর জোহরের নামাজের আগেই জনসভাটি শেষ হয়।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম। এছাড়াও জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বগুড়া জনসভার পূর্বে সকাল সাড়ে ১১টায় জেলার মোকামতলায় একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বগুড়ার জনসভা শেষে দুপুর ২টায় শেরপুর উপজেলায় আরেকটি জনসভায় যোগ দেন ডা. শফিকুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি সিরাজগঞ্জ শহর ও উল্লাপাড়া সফর করেন এবং সন্ধ্যায় পাবনায় পৌঁছান।
রিপোর্টারের নাম 




















