ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার নির্বাচনী ইশতেহার: ‘সেবা না দিলে বিল নেই’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. তাসনিম জারা। আসন্ন নির্বাচনের জন্য তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি তার ইশতেহারটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬

ডা. তাসনিম জারা, যিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রতীকে (⚽) নির্বাচন করছেন, তার ইশতেহারে এলাকার জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই এলাকার বাসিন্দারা গুলশান-বনানীর মতো একই পরিমাণ ট্যাক্স ও বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও উন্নত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নেতাদের আনাগোনা থাকলেও, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দেখা মেলে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এলাকার জনগণকে ‘এটিএম মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে অর্থ আদায়ের বেলায় তাদের প্রয়োজন হলেও, সেবার বেলায় তাদের অবহেলা করা হয়।

তাসনিম জারা নিজেকে একজন পেশাদার রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং এই এলাকার একজন বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ঢাকা-৯ কে অবহেলার দিন শেষ। এলাকার মানুষেরা সমান ট্যাক্স প্রদান করে, তাই তাদের অধিকারও সমান হওয়া উচিত এবং তারা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করে নেবে।

মূল সমস্যা ও প্রস্তাবিত সমাধান:

১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই

সমস্যা: এলাকার বাসিন্দারা প্রতি মাসে গ্যাসের বিল পরিশোধ করলেও, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না। এই গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। এর পাশাপাশি, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ভাঙা এবং জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা এলাকার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ এবং ভাঙ্গাচোরা রাস্তাগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাধান:
ন্যায্য বিল: সংসদে প্রথম কাজ হিসেবে “সেবা না দিলে বিল নেই” (No Service, No Bill) নীতির উপর ভিত্তি করে একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করা হবে। গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস যদি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা বিল আদায় করতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফের প্রস্তাব থাকবে এই আইনে।
সিন্ডিকেট ভাঙা: পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে, সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হবে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে চাপ দেওয়া হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসন: ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষা আসার পূর্বেই খাল ও নর্দমাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নিশ্চিত করতে ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক উন্নয়ন: রাস্তার পাশে বা আবাসিক এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ জমা প্রতিরোধ করা হবে। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা (Secondary Transfer Station) নিশ্চিত করা এবং এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
সমন্বয় ও জবাবদিহিতা: রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ নির্ধারণ করা হবে। ওয়াসা বা সিটি কর্পোরেশন, যে-ই রাস্তা খনন করুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। ডেডলাইন অতিক্রম করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।

২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর মানব না

সমস্যা: ঢাকা-৯ এলাকায় প্রায় ৭-৮ লাখ মানুষের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও, এই এলাকার জন্য মাত্র একটি বড় হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল, রয়েছে। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন এবং রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতি বছর বর্ষাকালে বৃদ্ধি পায়, যেখানে লোক দেখানো মশার ঔষধ ছিটানো হলেও, অনেক প্রিয়জন অকালে মৃত্যুবরণ করছে।

সমাধান: একজন চিকিৎসক হিসেবে, তাসনিম জারা তার দেশ-বিদেশের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মুগদা হাসপাতালে মানোন্নয়ন: মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যাতে এটি একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সূচি: আজ টিভিতে যেসব ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ দেখা যাবে

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার নির্বাচনী ইশতেহার: ‘সেবা না দিলে বিল নেই’

আপডেট সময় : ০৪:২২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. তাসনিম জারা। আসন্ন নির্বাচনের জন্য তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি তার ইশতেহারটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬

ডা. তাসনিম জারা, যিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রতীকে (⚽) নির্বাচন করছেন, তার ইশতেহারে এলাকার জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই এলাকার বাসিন্দারা গুলশান-বনানীর মতো একই পরিমাণ ট্যাক্স ও বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও উন্নত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নেতাদের আনাগোনা থাকলেও, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দেখা মেলে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এলাকার জনগণকে ‘এটিএম মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে অর্থ আদায়ের বেলায় তাদের প্রয়োজন হলেও, সেবার বেলায় তাদের অবহেলা করা হয়।

তাসনিম জারা নিজেকে একজন পেশাদার রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং এই এলাকার একজন বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ঢাকা-৯ কে অবহেলার দিন শেষ। এলাকার মানুষেরা সমান ট্যাক্স প্রদান করে, তাই তাদের অধিকারও সমান হওয়া উচিত এবং তারা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করে নেবে।

মূল সমস্যা ও প্রস্তাবিত সমাধান:

১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই

সমস্যা: এলাকার বাসিন্দারা প্রতি মাসে গ্যাসের বিল পরিশোধ করলেও, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না। এই গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। এর পাশাপাশি, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ভাঙা এবং জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা এলাকার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ এবং ভাঙ্গাচোরা রাস্তাগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাধান:
ন্যায্য বিল: সংসদে প্রথম কাজ হিসেবে “সেবা না দিলে বিল নেই” (No Service, No Bill) নীতির উপর ভিত্তি করে একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করা হবে। গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস যদি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা বিল আদায় করতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফের প্রস্তাব থাকবে এই আইনে।
সিন্ডিকেট ভাঙা: পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে, সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হবে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে চাপ দেওয়া হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসন: ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষা আসার পূর্বেই খাল ও নর্দমাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নিশ্চিত করতে ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক উন্নয়ন: রাস্তার পাশে বা আবাসিক এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ জমা প্রতিরোধ করা হবে। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা (Secondary Transfer Station) নিশ্চিত করা এবং এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
সমন্বয় ও জবাবদিহিতা: রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ নির্ধারণ করা হবে। ওয়াসা বা সিটি কর্পোরেশন, যে-ই রাস্তা খনন করুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। ডেডলাইন অতিক্রম করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।

২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর মানব না

সমস্যা: ঢাকা-৯ এলাকায় প্রায় ৭-৮ লাখ মানুষের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও, এই এলাকার জন্য মাত্র একটি বড় হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল, রয়েছে। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন এবং রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতি বছর বর্ষাকালে বৃদ্ধি পায়, যেখানে লোক দেখানো মশার ঔষধ ছিটানো হলেও, অনেক প্রিয়জন অকালে মৃত্যুবরণ করছে।

সমাধান: একজন চিকিৎসক হিসেবে, তাসনিম জারা তার দেশ-বিদেশের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মুগদা হাসপাতালে মানোন্নয়ন: মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যাতে এটি একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়।