ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এই ভূখণ্ডে কোনো ধরনের বিদেশি আধিপত্যবাদের ছায়া এ দেশের মানুষ বরদাশত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে। কোনো শক্তির অনুকম্পা বা অধীনস্থ হয়ে থাকার নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বাসী নয়।

সম্প্রতি এক সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। অতীতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ছাত্র-জনতার যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো অপশক্তিকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় কিন্তু তারা নিজের অধিকার ও দেশের সম্মান রক্ষায় আপসহীন। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কেবল এ দেশের মানুষের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। এখানে অন্য কোনো রাষ্ট্রের খবরদারি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী মানসিকতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য শুভ নয়।

জামায়াত আমির দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতিগত ঐক্যই হচ্ছে যেকোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার প্রধান হাতিয়ার। বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানতে চাইবে কিংবা এ দেশের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের দেশপ্রেমিক জনতা উপযুক্ত জবাব দেবে।

পরিশেষে তিনি একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এবং কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব থাকবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন নির্ভয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে পারে, সেটিই এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সূচি: আজ টিভিতে যেসব ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ দেখা যাবে

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এই ভূখণ্ডে কোনো ধরনের বিদেশি আধিপত্যবাদের ছায়া এ দেশের মানুষ বরদাশত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে। কোনো শক্তির অনুকম্পা বা অধীনস্থ হয়ে থাকার নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বাসী নয়।

সম্প্রতি এক সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। অতীতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ছাত্র-জনতার যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো অপশক্তিকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় কিন্তু তারা নিজের অধিকার ও দেশের সম্মান রক্ষায় আপসহীন। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কেবল এ দেশের মানুষের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। এখানে অন্য কোনো রাষ্ট্রের খবরদারি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী মানসিকতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য শুভ নয়।

জামায়াত আমির দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতিগত ঐক্যই হচ্ছে যেকোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার প্রধান হাতিয়ার। বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানতে চাইবে কিংবা এ দেশের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের দেশপ্রেমিক জনতা উপযুক্ত জবাব দেবে।

পরিশেষে তিনি একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এবং কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব থাকবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন নির্ভয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে পারে, সেটিই এখন সময়ের দাবি।