প্রায় দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আগামীকাল রবিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর আগমনের উপলক্ষ্যে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। নগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। অন্যদিকে, পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে কর্মযজ্ঞ। প্রায় আড়াইশ শ্রমিক দিনরাত কাজ করে চলেছেন। সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণ, মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও বিলবোর্ডে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক এবং অলি-গলির মুখগুলো ছেয়ে গেছে। উৎসুক জনতা ও নেতাকর্মীরা মঞ্চ দেখতে পলোগ্রাউন্ডে ভিড় করছেন।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে পলোগ্রাউন্ড মাঠে দেখা গেছে, মাঠের পশ্চিম প্রান্তে মঞ্চ তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। বাঁশ বাঁধা, কাঠ কাটা, স্টিলের সিঁড়ি স্থাপন ও মাটি খোঁড়ার কাজ চলছে। মাইক ও সাউন্ড বক্সগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং বাঁশের উপর থেকে ত্রিপল টাঙানোর কাজও চলছে।
বিএনপির সর্বশেষ পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালে, যেখানে তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। সেবার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এবারের মঞ্চটি ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬০ ফুট প্রস্থের। এটি সম্পূর্ণ বাঁশ ও কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। মঞ্চে ওঠার জন্য স্টিলের সিঁড়িও নির্মাণ করা হচ্ছে। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত প্রায় ২০০টি মাইক এবং ১০টি সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা হবে। শুক্রবার রাতে চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমাবেশস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে।
সমাবেশস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে: রেড জোন, ইয়োলো জোন এবং গ্রিন জোন। মঞ্চটিকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীরা থাকতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়োলো জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য পৃথক স্থান বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পুরো মাঠ গ্রিন জোন হিসেবে বিবেচিত হবে।
২১ বছর পর তারেক রহমানের আগমনে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই তারেক রহমানকে নিয়ে বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করছেন। সকাল-বিকাল বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে পলোগ্রাউন্ডে আসছেন। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পলোগ্রাউন্ডের কর্মযজ্ঞ দেখতে ভিড় করছেন।
বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পাদক ডা. এস এম সরোয়ার আলম বলেন, “তারেক রহমানের আগমন আমাদের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ বছর পর আমরা আমাদের প্রিয় নেতাকে নিজেদের মাটিতে ফিরে পেতে চলেছি। তাঁর আগমনে রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়েছে।”
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “একটি প্রস্তুতি কমিটিসহ মোট তিনটি উপ-কমিটি তারেক রহমানের আগমনের জন্য কাজ করছে। ইতিমধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। নগরজুড়ে এখন সাজসাজ রব। ২১ বছর পর আমাদের নেতা আসছেন, তাই নগর বিএনপির ঘরে এখন উৎসবের আমেজ।” তিনি আরও বলেন, “দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নেবে। আমরা আশা করছি, ২৫ জানুয়ারির সমাবেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। তিনি সমাবেশে ঐক্যের বার্তা দেবেন এবং চট্টগ্রামকে ঘিরে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। একইসাথে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন।”
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকল থানার ওসিদের সাথে শুক্রবার ব্রিফিং সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ২৫ জানুয়ারির সমাবেশস্থল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য একটি বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















