যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে অনেক সময় তুচ্ছ বস্তুও হয়ে ওঠে মহাকাব্যিক গল্পের আধার। তেমনি এক অবহেলায় পড়ে থাকা কফি কাপকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে এক গভীর জীবনবোধ ও বিচ্ছেদের গল্প। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবল একটি মৃৎপাত্র মনে হলেও, এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এক অমলিন স্মৃতি, যা সময়ের ধুলোবালি ছাপিয়ে আজও জীবন্ত।
নিঃসঙ্গতায় নিমজ্জিত সেই কফি কাপটি যেন কেবল একটি পাত্র নয়, বরং এক রুদ্ধশ্বাস সময়ের নীরব সাক্ষী। নির্জনতায় পড়ে থাকা কাপটির অবয়ব বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, এটি যেন কোনো এক ফেলে আসা সময়ের অবরুদ্ধ গল্প বলতে চাইছে। সেই গল্পে মিশে আছে এমন এক নারীর উপস্থিতি, যিনি একসময় পরম মমতায় রাঙিয়েছিলেন প্রিয়জনের ললাট। ধূসর আকাশ আর বিষণ্ণতার দিনগুলোতে এই কফি কাপটিই ছিল একমাত্র সঙ্গী, যা ভাগ করে নিয়েছিল জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দেখা যায়, কাপের গায়ে আঁকা জলপ্রবাহের আল্পনা যেন হঠাৎ করেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সেখানে জমে থাকা শূন্যতা আর উদ্দেশ্যহীন স্মৃতির বোঝা থেকে মুক্তির এক তীব্র আকুতি অনুভূত হয়। স্মৃতির এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া সত্তাটি যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখোমুখি হয়। কুয়াশা আর মরীচিকার আবহে অতীতের সাথে এক অস্ফুট কথোপকথন চলতে থাকে, যেখানে অব্যক্ত কান্নাগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে যায়।
একাকীত্বের এই দীর্ঘ পথচলায় স্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া সেই ‘জলকন্যা’র অস্তিত্ব আজও অম্লান। বিচ্ছেদের দহন আর নির্বাসনের যন্ত্রণা বুকে চেপে আজও সেই কাপের কিনারে খুঁজে পাওয়া যায় পুরনো স্পর্শের রেশ। নীরবতার দিকে তাকিয়ে থাকা আর স্মৃতির অতলান্তে ডুবে থাকা এই জীবন যেন এক নিরন্তর পর্যটন, যেখানে গন্তব্য নেই, আছে কেবল অতীতে ফিরে দেখার আকুলতা। একটি সাধারণ কফি কাপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আবেগঘন আখ্যানটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বস্তু কেবল বস্তু নয়, বরং মানুষের আবেগ ও স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রিপোর্টারের নাম 


















