বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বশবর্তী হয়ে রাজনীতি করে না। জামায়াত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে অবিচল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো স্বার্থের গোলাম নই এবং বসন্তের কোকিলও নই যে শুধু সুসময়ে পাশে থাকব।”
রাজধানীতে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ সময় ধরে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও রাজপথে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিকূল সময়ে পিছু না হটে জনগণের পাশে থাকাই তাদের রাজনীতির মূল আদর্শ।
বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গত দেড় দশকে দেশে সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন চলেছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ এক নতুন স্বাধীনতা লাভ করেছে এবং এই বিজয়কে টেকসই করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। তবে সেই সংস্কার যেন দীর্ঘসূত্রিতার কবলে না পড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করাই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলায় পা না দিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জামায়াতে ইসলামী একটি বৈষম্যহীন, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।
রিপোর্টারের নাম 


















