ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নিবন্ধনহীন লিবার্টি হাসপাতাল: জুলাই বিপ্লবে বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের চিকিৎসা, জবরদখলের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পরিবাগে অবস্থিত লিবার্টি হাসপাতাল দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটির নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরিয়েছে এবং পরিবেশ ছাড়পত্রও নেই। এর পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গত জুলাই বিপ্লবের সময় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এই অবৈধ হাসপাতালে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি মালিকানায় না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পদধারী কিছু চিকিৎসক নেতা জবরদখল করে পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে প্রায় ১,২০০টি অস্ত্রোপচার এবং পাঁচ থেকে ছয় হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই কার্যক্রম থেকে ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা আয় হলেও সরকারকে কোনো রাজস্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালটির পরিচালক জাহিদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অফিস অব দ্য রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ থেকে লিবার্টি হাসপাতালের নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে, ২০২৪ সালের জুনে এর নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। প্রায় দেড় বছর আগে মেয়াদ ফুরানোর পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিবন্ধন নবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু তাই নয়, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এই হাসপাতাল ও এর ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে জরিমানা করে এবং ছাড়পত্র ছাড়া এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই হাসপাতালটি চলছে।

গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের শেষদিকে শাহবাগ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৪ জন চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের অনেকেই লিবার্টি হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, বহিষ্কৃতদের তালিকায় থাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক সহকারী প্রক্টর ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ লিবার্টি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন। এছাড়া, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেন মুন্সী, নিউরো সার্জন ডা. ফরিদ রায়হান এবং মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফ উদ্দিন সিদ্দিকীও এই হাসপাতালে কর্মরত আছেন। এরা প্রত্যেকেই জুলাই বিপ্লবের ঘটনায় বহিষ্কৃত এবং আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে হাসপাতালটি চালু করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ২৫ জন পরিচালকের বাইরেও আরও ২০ জনের শেয়ার রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে মাত্র এক শতাংশ শেয়ারের মালিক হয়েও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে বসেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম চৌধুরী। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর হাসপাতালের পরিচালকদের মধ্য থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার কথা থাকলেও, সেই দায়িত্ব মালিকানাহীন আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিএমইউ-এর জেনারেল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক শেখ মুজাম্মেল হক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাগজপত্র ছাড়া রেজুলেশন জালিয়াতি করে অবৈধভাবে এই পদে বসেছেন।

লিবার্টি হাসপাতালের অন্তত পাঁচজন পরিচালক অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল দখলের পাশাপাশি বিএমইউ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের আশ্রয় দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মুজাম্মেল।

হাসপাতালের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, “হাসপাতালের শুরু থেকে কেনাকাটাসহ নানা দুর্নীতির কারণে একাধিকবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি বাধ্যতামূলক আটটি লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতালটি দখল করে পরিচালনা করছে। এই দুর্নীতিবাজ চক্র হাসপাতাল চালুর আগে কেনাকাটায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং গত প্রায় ১৮ মাস ধরে প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে, কিন্তু এর দায় চাপিয়েছে হাসপাতালের ওপর।” তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর এক বছর আগে হাসপাতাল বন্ধের আদেশ দিলেও, তারা তা উপেক্ষা করে অ্যাটমিক এনার্জি ও নারকোটিক লাইসেন্স ছাড়াই ১,২০০ অপারেশন এবং ২০ হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যতামূলক লাইসেন্সগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিবার্টি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শেখ মুজাম্মেল হক বলেন, “হাসপাতালটি চালুর পর নিবন্ধন হলেও নানা জটিলতায় সেটি নবায়ন করা হয়নি। অনেক সনদই ছিল না। আমি বছরখানেক হয় দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি সনদ করা হয়েছে, বাকিগুলো করার চেষ্টা চলছে।” আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি হাসপাতাল, এখানে বিএনপি মানসিকতার চিকিৎসক যেমন আছেন, তেমনি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকরাও আছেন। আমরা কাউকে পুনর্বাসন করছি না।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, “নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরালে তা নবায়ন করতে হয়। কেন এটি করা হলো না, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আর পরিবেশ অধিদপ্তর যেখানে জরিমানা ও বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে কীভাবে হাসপাতালটি চলছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। এক ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিতে পারে না। সে অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরেরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সূচি: আজ টিভিতে যেসব ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ দেখা যাবে

নিবন্ধনহীন লিবার্টি হাসপাতাল: জুলাই বিপ্লবে বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের চিকিৎসা, জবরদখলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর পরিবাগে অবস্থিত লিবার্টি হাসপাতাল দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটির নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরিয়েছে এবং পরিবেশ ছাড়পত্রও নেই। এর পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গত জুলাই বিপ্লবের সময় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এই অবৈধ হাসপাতালে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি মালিকানায় না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পদধারী কিছু চিকিৎসক নেতা জবরদখল করে পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে প্রায় ১,২০০টি অস্ত্রোপচার এবং পাঁচ থেকে ছয় হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই কার্যক্রম থেকে ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা আয় হলেও সরকারকে কোনো রাজস্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালটির পরিচালক জাহিদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অফিস অব দ্য রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ থেকে লিবার্টি হাসপাতালের নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে, ২০২৪ সালের জুনে এর নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। প্রায় দেড় বছর আগে মেয়াদ ফুরানোর পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিবন্ধন নবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু তাই নয়, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এই হাসপাতাল ও এর ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে জরিমানা করে এবং ছাড়পত্র ছাড়া এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই হাসপাতালটি চলছে।

গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের শেষদিকে শাহবাগ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৪ জন চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের অনেকেই লিবার্টি হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, বহিষ্কৃতদের তালিকায় থাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক সহকারী প্রক্টর ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ লিবার্টি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন। এছাড়া, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেন মুন্সী, নিউরো সার্জন ডা. ফরিদ রায়হান এবং মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফ উদ্দিন সিদ্দিকীও এই হাসপাতালে কর্মরত আছেন। এরা প্রত্যেকেই জুলাই বিপ্লবের ঘটনায় বহিষ্কৃত এবং আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে হাসপাতালটি চালু করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ২৫ জন পরিচালকের বাইরেও আরও ২০ জনের শেয়ার রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে মাত্র এক শতাংশ শেয়ারের মালিক হয়েও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে বসেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম চৌধুরী। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর হাসপাতালের পরিচালকদের মধ্য থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার কথা থাকলেও, সেই দায়িত্ব মালিকানাহীন আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিএমইউ-এর জেনারেল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক শেখ মুজাম্মেল হক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাগজপত্র ছাড়া রেজুলেশন জালিয়াতি করে অবৈধভাবে এই পদে বসেছেন।

লিবার্টি হাসপাতালের অন্তত পাঁচজন পরিচালক অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল দখলের পাশাপাশি বিএমইউ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের আশ্রয় দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মুজাম্মেল।

হাসপাতালের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, “হাসপাতালের শুরু থেকে কেনাকাটাসহ নানা দুর্নীতির কারণে একাধিকবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি বাধ্যতামূলক আটটি লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতালটি দখল করে পরিচালনা করছে। এই দুর্নীতিবাজ চক্র হাসপাতাল চালুর আগে কেনাকাটায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং গত প্রায় ১৮ মাস ধরে প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে, কিন্তু এর দায় চাপিয়েছে হাসপাতালের ওপর।” তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর এক বছর আগে হাসপাতাল বন্ধের আদেশ দিলেও, তারা তা উপেক্ষা করে অ্যাটমিক এনার্জি ও নারকোটিক লাইসেন্স ছাড়াই ১,২০০ অপারেশন এবং ২০ হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যতামূলক লাইসেন্সগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিবার্টি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শেখ মুজাম্মেল হক বলেন, “হাসপাতালটি চালুর পর নিবন্ধন হলেও নানা জটিলতায় সেটি নবায়ন করা হয়নি। অনেক সনদই ছিল না। আমি বছরখানেক হয় দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি সনদ করা হয়েছে, বাকিগুলো করার চেষ্টা চলছে।” আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি হাসপাতাল, এখানে বিএনপি মানসিকতার চিকিৎসক যেমন আছেন, তেমনি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকরাও আছেন। আমরা কাউকে পুনর্বাসন করছি না।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, “নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরালে তা নবায়ন করতে হয়। কেন এটি করা হলো না, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আর পরিবেশ অধিদপ্তর যেখানে জরিমানা ও বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে কীভাবে হাসপাতালটি চলছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। এক ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিতে পারে না। সে অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরেরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।”