দেশের বিদ্যমান সামাজিক পরিবেশ কিছুটা অসহিষ্ণু এবং তা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. রওনক জাহান। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই ‘সম্প্রতি’ বা ‘গত শুক্রবার’ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে যেহেতু মূল আর্টিকেলে ‘শুক্রবার’ আছে, এটিই রাখছি) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক রওনক জাহান জোর দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনে একটি বড় দলের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার প্রয়াস হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন কোনো সুযোগ তৈরি করা উচিত নয়, যা অন্য কোনো পক্ষকে আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়। নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন নয়। এটি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের মালিকানা বুঝে পাওয়ার নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা অবশ্যই যুক্তিনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয়। সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে উসকে দিচ্ছে, যা নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় তৎপর দেশি-বিদেশি শক্তিগুলোকে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল এবং সাংবাদিক সাইদুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 


















